ঝাঁকে ঝাঁকে মশা: চবি শিক্ষকদের সহযোগিতা চান মেয়র রেজাউল

  |  সোমবার, মার্চ ১৫, ২০২১ |  ২:২৪ অপরাহ্ণ

সন্ধ্যায় বাসা-বাড়ির দরজা-জানালা খুললেই ঢুকছে ঝাঁকে মশা। ফুটপাতে বা কোনো উন্মুক্ত স্থানে দাঁড়ালেই ‘আক্রমণ’ করছে মশক বাহিনী।

স্প্রে, কয়েল, ধূপ-ধোঁয়া কিছুতেই মিলছে না নিস্তার। মশারির ছিদ্র দিয়ে ঢুকে পড়ছে ছোট ছোট মশা।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর চট্টগ্রামের মানুষের প্রধান মাথাব্যথা এখন মশা। খাল, নালা, ডোবা-পুকুর-দীঘির বদ্ধ পানিতে ঝাঁকে ঝাঁকে মশা দেখা যাচ্ছে খালি চোখে। শুধু খাল নালা নয়, ফ্লাইওভার, সড়ক সংস্কার, গ্যাস-পানির লাইন সংস্কারসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের জন্য জমে থাকা পানিতেও বংশ বিস্তার করছে মশা। সচেতন অভিভাবকরা ঘরে সন্তানদের খেলাধুলা কিংবা পড়ার সময় মশারি টাঙিয়ে দিচ্ছেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নতুন মেয়র দায়িত্ব গ্রহণের পর মশা মারা ও পরিচ্ছন্নকাজে ১০০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করলেও দৃশ্যমাণ অগ্রগতি কম।

এ অবস্থায় রোববার (১৪ মার্চ) চসিকের ব্যবহৃত মশার ওষুধের কার্যকারিতা ও মান নিরীক্ষণের জন্য মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রক্টর ও অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. রবিউল হোসেন ভূঁইয়া, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. মো. ওমর ফারুক রাসেল ও কাজী নুর সোহাতের সঙ্গে বৈঠক করে সহযোগিতা চেয়েছেন।

এ সময় মেয়র বলেন, আমাদের ব্যবহৃত মশার ওষুধের মান ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাই আমি মশার ওষুধের কার্যকারিতা ও মানের বিষয় বিস্তারিত জানার জন্য আপনাদের সহযোগিতা চাই।
কী ধরনের ওষুধ ব্যবহার করলে মশার প্রজনন ক্ষমতা ও মশার উপদ্রব কমবে এবং মশার যন্ত্রণা থেকে নগরবাসী রেহাই পাবে সে বিষয়ে গবেষণা করে পরামর্শ দেওয়ার অনুরোধ জানান মেয়র।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোর্শেদুল আলম চৌধুরী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

জানতে চাইলে মোর্শেদুল আলম চৌধুরী বলেন, চসিক লার্ভিসাইড, অ্যাডাল্টিসাইড ও কালো তেল ব্যবহার করছে মশা নিধনের জন্য। ৪১টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন ৪ জন করে কর্মী মশার ওষুধ ছিটাচ্ছেন। এর বাইরে বিশেষ কর্মসূচির অধীন চারটি ওয়ার্ডে আরও ২৮ জন কর্মী নিয়োজিত আছেন।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, উড়ন্ত মশা মারার জন্য যে অ্যাডাল্টিসাইড ব্যবহার করছি আমরা সেটি নতুন করে কেনার আগে মেয়র মহোদয় চবির কীটতত্ত্ববিদদের পরামর্শ চেয়েছেন। আমরা ওষুধের নমুনা পাঠিয়ে দেব বিশ্ববিদ্যালয়ে। উনারা গবেষণা করে কয়েক দিনের মধ্যে ফলাফল ও পরামর্শ জানাবেন। তার ভিত্তিতে মেয়র মহোদয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। এর মধ্যে মশা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত যে কার্যক্রম সেটি চলমান থাকবে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি জানান, মশার মাধ্যমে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। তবে কয়েক মাসের মধ্যে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যায়নি।