শান্তি-সমৃদ্ধির জন্য স্বাধীন ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক জরুরি

  |  বুধবার, মার্চ ১৭, ২০২১ |  ১০:০২ অপরাহ্ণ

চট্টলা ২৪ ডেস্ক ::

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক সামনের দিনে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইউসি হিদে সুগা। বুধবার মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর যৌথ আয়োজনের উদ্বোধনীতে দেয়া ভিডিও বার্তায় সুগা বলেন, এই অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য আইনের শাসন ও কানেকটিভিটির তাগিদ দিয়ে বলেন, এটাকে ভিত্তি ধরে স্বাধীন ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক গড়া সম্ভব হলে গোটা অঞ্চলই উপকৃত হবে। এটা শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে। স্বাধীন ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে জাপান কাজ করবে বলেও জানান দেশটির প্রেসিডেন্ট। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে জাপান মডেলে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী সুগা বলেন, জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বের ইতিহাস অনেক পুরনো। ৫০ বছর আগে বিশ্বের অল্প যে ক’টি দেশ প্রথম পর্যায়ে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল জাপান তার অন্যতম। ১৯৭২ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হলেও বাঙালিদের সঙ্গে জাপানিজদের সম্পর্ক শতাব্দী প্রাচীন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এজন্য জাপানকে ঐতিহাসিকভাবে বাঙালিরা বন্ধুরাষ্ট্র মনে করে।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুই জাপান ও বাংলাদেশ মৈত্রীর রূপকার। বাংলাদেশ থেকে জাপানে বঙ্গবন্ধুর সফরের সময় বাংলাদেশ- জাপান আর্থিক সহযোগিতার দিগন্ত উন্মোচিত হয়। তিনি বঙ্গবন্ধুর জাপান ভ্রমণের কথা উল্লেখ করে বলেন, জাপান সফরের সময় শেখ মুজিবুর রহমান স্বভাবগতভাবেই ইচ্ছা প্রকাশ করে কয়েকবার বলেন, তিনি জাপানের মডেলে তার বাংলাদেশকে গড়ে তুলবেন। তাকে স্বাগত জানিয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর অফিসে আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মি. তানাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে মন্তব্য করেন, “তিনি যেনো আমাদের হিরোভূমি ইতো” ইতো ছিলেন জাপানের প্রধান জাতীয় নেতা। বর্তমান সম্পর্কের বিষয়ে জাপানি প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জাপানি শিশুরা ত্রাণ সংগ্রহের জন্য যেমন অত্যন্ত পরিশ্রম করেছে, তেমনি ১০ বছর আগে যখন জাপানে একটি বড় ভূমিকম্প হয় তখন বাংলাদেশ ত্রাণ দিয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। তিনি বলেন, বিশ্বাস, সহযোগিতা ও উভয়ের জন্য মঙ্গলজনক এই তিনটি জিনিসের ওপর ভিত্তি করে আমাদের প্রথাগত সম্পর্ক এখন আরো দৃঢ় ও মজবুত হয়েছে। স্বাধীনতার সময় থেকে সোনার বাংলা অর্জনে জাপান সহায়তা দিচ্ছে জানিয়ে ইয়োশি হিদে সুগা বলেন, যমুনা সেতু, ১০০ টাকার ব্যাংক নোট, সোনারগাঁও হোটেল স্বাধীনতার পরপরই তৈরি হয়। বর্তমান সময়ে ঢাকায় রোড নেটওয়ার্কসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্পে জাপান সহায়তা দিচ্ছে। এ ছাড়া ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরি করছে আঞ্চলিক কানেকটিভিটি বৃদ্ধির জন্য। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভারত উপমহাদেশের মাঝখানে বাংলাদেশ অবস্থিত হওয়ায় এবং সাম্প্রতিক উন্নতির কারণে জাপানের কোম্পানিগুলোর বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলেও জানান তিনি।