সন্ধ্যায় দেশে আসছে মওদুদের মরদেহ

  |  বৃহস্পতিবার, মার্চ ১৮, ২০২১ |  ২:১৫ অপরাহ্ণ
মওদুদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের মরদেহ বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় দেশে আসছে। জানাজা শেষে আগামীকাল শুক্রবার (১৯ মার্চ) নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে ।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের মৃত্যুতে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বৃহস্পতিবার ঢাকাসহ দেশজুড়ে একদিনের শোক পালন করছে বিএনপি। গতকাল বুধবার (১৭ মার্চ) দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

গতকাল দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রিজভী সাংবাদিকদের জানান, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের মৃত্যুতে বিএনপি বৃহস্পতিবার ঢাকাসহ দেশজুড়ে শোক পালন করবে। এ উপলক্ষে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে।

রিজভী আরো জানান, মওদুদ আহমদের কফিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেশে এসে পৌঁছাবে। শুক্রবার সকাল ১১টায় নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সকাল ১০টায় সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে জানাজা। পরে নোয়াখালীর বসুরহাট ও কোম্পানীগঞ্জে পৃথক জানাজা শেষে গ্রামের বাড়িতে আরেক দফা জানাজার পর তার লাশ দাফন করা হবে।

মওদুদ আহমদের একান্ত সহকারী মোমিনুর রহমান সুজন সাংবাদিকদের বলেন, স্যারের মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় আনার সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। বিমানের টিকিটও হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুর সময় ৩টা ৫০ মিনিটে বিমানে কফিন রওনা হবে। ঢাকায় পৌঁছাবে সন্ধ্যায়। বিমানবন্দর থেকে স্যারের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে গুলশানে ইউনাইটেড হাসপাতালের হিমঘরে। পরদিন শুক্রবার ঢাকায় হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে সকাল ১০টায় এবং নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় জানাজা সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে।

সুজন আরো জানান, ঢাকায় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মওদুদ আহমদের কফিন হেলিকপ্টারে করে নিয়ে যাওয়া হবে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে। সেখানে বাদ আসর কোম্পানীগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে জানাজার পর বসুরহাটেও জানাজা হবে। পরে নিজের বাড়ির আঙিনায় আরো একটি জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মা ও বাবার কবরের পাশে তার লাশ দাফন করা হবে।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে মারা যান এ প্রবীণ রাজনীতিবিদ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

পেশায় স্বনামধন্য আইনজীবী। কিন্তু সে পরিচয় ছাপিয়ে দেশবরেণ্য রাজনীতিবিদ তিনি। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকলেও তিন দফা দল পাল্টে বিএনপি, জাতীয় পার্টি পরে আবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এ নেতা। ক্যারিয়ারের সূচনালগ্ন থেকেই নানাবিধ কর্মকাণ্ডের কারণে যেমন নন্দিত হয়েছেন, আবার বারবার দল বদলে হয়েছেন সমালোচিতও। তিনি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস করে লন্ডন থেকে বার অ্যাট ল’ ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। এরপর দেশে এসে উচ্চ আদালতে দায়িত্ব পালন শুরু করেন ব্যারিস্টার মওদুদ।

রাজনীতির শুরুটা হয় আওয়ামী লীগের হাত ধরে। মুক্তিযুদ্ধের আগে তিনি কাজ করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে। ১৯৭৭-এর পর মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সরকারে উপদেষ্টা থাকা অবস্থায় মন্ত্রিত্ব পান। এরপর তাকে দায়িত্ব দেয়া হয় উপপ্রধানমন্ত্রীর। এমনকি বিএনপি অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এই মওদুদ আহমদ।

জিয়া নিহত হওয়ার পর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় এলে ১৯৮১ সালে তথ্যমন্ত্রী হন তিনি। এরপর কয়েক দফায় উপপ্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও পরে উপরাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পান এই রাজনীতিবিদ। ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতন হলেও থেকে যান জাতীয় পার্টিতেই। পরে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপিতে যোগ দেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

শিল্প, পরিকল্পনা, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক, বিদ্যুৎ, পানি, রেল, সড়ক ও যোগাযোগ এবং টেলিযোগযোগ মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। অন্যদিকে, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিতও হয়েছেন তিনি।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ১৯৪০ সালের ২৪ মে ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমান বাংলাদেশ) নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মাওলানা মমতাজ উদ্দিন আহমদ এবং মা বেগম আম্বিয়া খাতুন। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে মওদুদ আহমদ চতুর্থ।