বিজ্ঞানের আলোকে নামাজের উপকারিতা,পড়লে অবাক হবে আপনিও

  |  শনিবার, মার্চ ২০, ২০২১ |  ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞানের আলোকে নামাজের উপকারিতা

নামাজ ইহ-পরকাল উভয় স্থানেরই দুঃখ-কষ্ট মোচনকারী। তবে তার কিছু শর্ত আছে। এ শর্তগুলোও বিজ্ঞানভিত্তিক। যেমন এক. শরীর ও কাপড় পাক। দ্বিতীয়, জায়গা পাক। শরীরের পবিত্রতা পানি ও অজু দ্বারা সম্পন্ন হয়। কাপড় ও জায়গা সম্পর্কে শরিয়তের বিধান যা বিজ্ঞান ও বাস্তবভিত্তিক।

ময়লাযুক্ত কাপড় পরে নামাজ পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ ময়লা কাপড়ে রোগজীবাণু থাকে, সেই রোগজীবাণু নামাজির শরীরে প্রবেশ করে যেন রোগের সৃষ্টি করতে না পারে এবং যাতে জামাতের অন্য মুসল্লিরাও এতে আক্রান্ত হতে না পারে। তেমনি ময়লাযুক্ত অপবিত্র জায়গা রোগজীবাণু ছড়ায়, সেখান থেকেও নামাজি ব্যক্তি আক্রান্ত হতে পারে। তাই পবিত্র কাপড় পরিধান করে ও পবিত্র স্থানে নামাজ আদায়ের জন্য অবশ্যই পালনীয় বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া একজন নামাজি যখন নামাজ আদায়ের জন্য জায়নামাজে দাঁড়ায়, তখন সে যেন আল্লাহতায়ালার সামনে দাঁড়ায়। সেই মহান দরবারে অপবিত্র অবস্থায় বা অপবিত্র জায়গায় দাঁড়ানো বান্দার জন্য অনুচিত বা বেয়াদবি। তাই নামাজে দাঁড়ানোর আগে পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবেই এসবের প্রতি খেয়াল রাখা একজন নামাজির দায়িত্ব ও কর্তব্য। সঠিক পদ্ধতিতে নামাজ আদায় করার দ্বারা আল্লাহর হুকুমও আদায় করা হলো, সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক উপকারিতাও অর্জিত হলো। আরও দেখুন, মানবদেহে যত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আছে সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নামাজের সুন্দরতম সিস্টেমের কারণে আল্লাহর আদেশ পালনের সঙ্গে সঙ্গে বিজ্ঞান-ভিত্তিক শারীরিক উপকারিতাও অর্জিত হয়। মানবদেহের মধ্যে ডান দিকের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোই বাঁ দিকের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থেকে পৃথক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।

বিশেষ করে ডান হাত থেকে একপ্রকার অদৃশ্য আলোকরশ্মি নির্গত হয়, যা ইতিবাচক হয়। পক্ষান্তরে বাঁ হাত থেকে যে রশ্মি নির্গত হয়, তা নেতিবাচক হয়। ফলে ডান হাতকে বাঁ হাতের ওপর রাখার কারণে ডান হাত থেকে নির্গত ইতিবাচক অদৃশ্য আলোকরশ্মি বাঁ হাতে স্থানান্তরিত হয়ে একপ্রকার শক্তি উৎপাদন করে। ফলে ওই হাত দ্বারা দৈনন্দিন বিভিন্ন ধরনের কাজ সম্পাদন করতে মানুষের ভারসাম্য রক্ষিত হয়, এতে সে অস্থির ও পেরেশান হয় না। অনুরূপ নামাজের মধ্যে দাঁড়ানো অবস্থায় সিজদার স্থানে দৃষ্টি রাখতে হয়। এ দৃষ্টি বাম হাতের ওপর স্থাপিত ডান হাতের ওপর দিয়ে সিজদার স্থানে পতিত হয় বলে উক্ত দৃষ্টি ইতিবাচক তরঙ্গমালা অতিক্রম করে, যা চোখের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এভাবে নামাজের প্রতিটি রুকন মানবদেহের জন্য খুবই উপকারী। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর তাহাজ্জুদ আদায়ের গুরুত্ব এসেছে। তাহাজ্জুদ নামাজের মাধ্যমে বান্দার সম্পর্ক আল্লাহর সঙ্গে নিবিড় হয়। বিজ্ঞ মনীষীরা তাহাজ্জুদ নামাজ নিয়ে রিসার্চ করে জানতে পেরেছেন, তাহাজ্জুদ নামাজে ছয়টি উপকার নিহিত আছে। এক. তাহাজ্জুদ নামাজ অশান্তি ও অনিদ্রার মহৌষধ, দুই. মানসিক রোগের জন্য তাহাজ্জুদ অব্যর্থ ওষুধ, তিন. রগে টানাপড়া রোগের জন্যও তা পরম উপকারী, চার. মস্তিষ্কের চিকিৎসা, পাঁচ. যাদের দৃষ্টিশক্তিতে ত্রুটি আছে তাদের জন্যও তাহাজ্জুদ নামাজ উপকারী, ছয়. তাহাজ্জুদ নামাজ মানবদেহে আনন্দ, উৎসাহ, কর্মস্পৃহা ও সীমাহীন শক্তি সঞ্চার করে, যা তাকে গোটা দিন হাসিখুশি ও উৎফুল্ল রাখে।

এসবই আল্লাহর কুদরতি হিকমত। আল্লাহ ইসলামের প্রতিটি বিধানের মধ্যে এক একটি অলৌকিক ক্ষমতা দান করেছেন। দীনদার চিকিৎসা-বিজ্ঞানীরা বলেন, ‘মেয়েরা যদি জানত নামাজে দীর্ঘ সিজদা করার কারণে চেহারা মসৃণ ও লাবণ্যময় হয় এবং তাতে নূর দেখা দেয়, তাহলে তারা সিজদা থেকে মাথাই ওঠাত না।’ গবেষণায় জানা যায়, ‘প্রতি সেকেন্ডে আলোর গতি ১ লাখ ৮৬ হাজার ২৮২ মাইল। নামাজি ব্যক্তি যখন সিজদা অবস্থায় জমিনে মাথা রাখে, তখন তার মস্তিষ্কের ভিতরে যে রশ্মি আছে তা জমিনের সঙ্গে মিশে যায়। ফলে মস্তিষ্কের গতিবেগ আলোর গতিবেগে পরিণত হয়, মস্তিষ্কের ভিতর অতিরিক্ত চিন্তাভাবনা সৃষ্টিকারী চমককে জমিন শোষণ করে নেয়। ফলে নামাজি ব্যক্তি তার অজান্তেই চিন্তার প্রচণ্ড চাপ থেকে মুক্তিলাভ করে।’ মুসলমানদের জন্য আল্লাহ তাঁর প্রিয় রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে যে বিধান নির্ধারণ করে দিয়েছেন এবং সেসব বিধানে মানুষের জন্য কী ধরনের মঙ্গল নিহিত আছে তিনি তারও বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। আমাদের শুধু জানা ও আমলে বাস্তবায়ন করার প্রয়োজন। কারণ ইবাদত-বন্দেগি শুধু পারলৌকিক জীবনের সুখ-শান্তির জন্যই নয়, ইহকালীন জীবনের সব ধরনের রোগব্যাধি ও নিয়মনীতির জন্যও উপকারী প্রেসক্রিপশন। যারা নামাজ, রোজা করে না, ওইসব ভাইয়ের প্রতি আমার অনুরোধ, সব রোগের আরোগ্য দানকারী আল্লাহ, তাঁর দেওয়া বিধিবিধান শুধু পরকালের জন্যই নয়, ইহকালের সুখ-শান্তি পাওয়ার জন্য এবং রোগব্যাধির হাত থেকে বেঁচে সুস্থ-সবল দেহ নিয়ে সুখে-শান্তিতে জীবন কাটানোর জন্য মহৌষধ। বড় বড় ডাক্তার পর্যন্ত তাদের রোগীদের ওপর ইসলামের ইবাদতের নিয়মনীতি প্রয়োগ করে অনেক সুফল পেয়েছেন।