চার মাসের মধ্যে ভারতে করোনায় সর্বোচ্চ শনাক্ত

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক |  শনিবার, মার্চ ২০, ২০২১ |  ৭:১১ অপরাহ্ণ

ভারতে চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে গতকাল শুক্রবার। আজ শনিবার জানানো হয়, গতকাল দেশটিতে ৪০ হাজার ৯৫৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর অর্ধেকের বেশি শনাক্ত হয়েছে মহারাষ্ট্র রাজ্যে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ভারতে আবার করোনার সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। করোনার বিস্তার ঠেকাতে দেশটির বেশ কিছু অঞ্চলে নতুন করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লকডাউন এবং রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ। এর বাইরে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

চিকিৎসকেরা দেশটিতে নতুন সংক্রমণের এই ঢেউয়ের জন্য মানুষের মাস্ক না পরা, সামাজিক দূরত্ব না মানাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে গা ছাড়া ভাবকে দায়ী করেছেন।

মহারাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫ হাজার ৬৮১ জনের করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মুম্বাইয়ে ৩ হাজার জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মহারাষ্ট্রের কয়েকটি জেলায় লকডাউন জারি করা হয়েছে। কিছু এলাকায় প্রেক্ষাগৃহ, হোটেল, রেস্তোরাঁ এ মাসের শেষ পর্যন্ত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি লকডাউনও আসতে পারে।

গত সেপ্টেম্বর মাসে ভারতে করোনা সংক্রমণ শনাক্তের হার দৈনিক এক লাখে পৌঁছায়। গত মাসের শেষ পর্যন্ত তা ধীরে ধীরে কমছিল। তবে এখন আবার মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাব, কর্ণাটক, গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশে করোনা সংক্রমণের হার বাড়ছে।

রাজধানী নয়াদিল্লিতেও দুই সপ্তাহ ধরে করোনা সংক্রমণের হার বাড়তে দেখা গেছে। শহর কর্তৃপক্ষ দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারিত করেছে। দৈনিক ৪০ হাজার থেকে এখন সেখানে ১ লাখ ২৫ হাজার ডোজ টিকা দেওয়া হচ্ছে। ভারত সরকার ৩০ কোটি মানুষকে অর্থাৎ, মোট জনসংখ্যার এক–পঞ্চমাংশকে আগস্ট মাস নাগাদ টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এখন পর্যন্ত ৪ কোটি ২০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনার সংক্রমণে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ কোটি ১৫ লাখ ৫৫ হাজার ২৮৪ জনের।