পানির সংকট দূর করতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছে রাঙামাটির কৃষক

  |  বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১, ২০২১ |  ৭:১৭ অপরাহ্ণ

চলতি মৌসুমে চাষিরা কাপ্তাই হ্রদের জলে ভাসা জমিতে যে হারে ধানের আবাদ করেছে সে তুলনায় ফলন হবে কিনা তা নিয়ে হতাশায় কপাল চাপড়াচ্ছে রাঙামাটির কৃষকেরা।

তারা বলছে প্রতিবছরের এই সময়ে হালকা বৃষ্টি থাকলেও এবছর বৃষ্টির কোনো আবাস এখন পর্যন্ত চোখে পড়েনি, তার মধ্যে পানির সংকটের কারণে নানা দুর্ভোগে পরতে হচ্ছে তাদের। এভাবে চলতে থাকলে নষ্ট হতে পারে আবাদি জমির ফসল।

এবছর হ্রদের পানি খুব ধীরগতিতে কমছে, হঠাৎ পানি বেড়ে গেলে ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও করছে এখানকার চাষিরা।

সবুজের চাদরে ভরা এই আবাদি ফসল টিকিয়ে রাখার বর্তমান মুখ্য বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে পানি, এক মাত্র পানির সংকট দূর হলে আগামীতে এই জলে ভাসা জমি থেকে ফলন আরো বাড়াতে পারবে বলে জানিয়াছেন স্থানীয় চাষিরা।

শহরের রাঙাপানি এলাকার কৃষক নরেন্দ্র চাকমা বলেন, আমাদের এলাকার ৫০ টির মত পরিবার এই জলে ভাসা জমিতে চাষের উপর নির্ভরশীল। প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও চাষ করলেও পানির সংকটের কারণে এবছর লাভের তুলনায় লোকসান গুনতে হবে বলে মনে হচ্ছে।

কারণ এক দিকে হ্রদের পানি খুব ধীরগতিতে কমছে অন্যদিকে ফসলি জমির জন্য পানি আনতে হয় অনেক দূর-দূরান্ত থেকে। এই জমিতে পানির কমতি থাকার কারণে ইতিমধ্যেই আবাদি ফসলের চেহারা পাল্টাতে শুরু করেছে। তাই সরকারের পক্ষ থেকে যদি পানির ব্যবস্তা কিংবা একটা ডিপ টিউবলের ব্যবস্তা করে দেয়া হতো তাহলে আমরা অনেকটা উপকৃত হতাম এবং আগামীতে এই ফসল থেকে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হতো।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষ্ণ প্রসাদ মল্লিক প্রতিবেদককে জানিয়েছে, এই ভড়া মৌসুমে রাঙামাটি জেলার সিহ ভাগ জলে ভাসা জমিতে ধানের চাষ হয়। যেটা হ্রদের পানির উচ্চতার উপর নির্ভর করে চাষ করা হয়, পানি কমতে থাকলে কৃষকেরা চাষ করতে শুরু করে।

এধরণের জমি আমাদের জরিপ মতে ৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি কিন্তু এবার হ্রদের পানি কমার যে প্রবণতা সে তুলনায় এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে তার মধ্যে সদরেই ২ শত ৩০ হেক্টর জমিতে ধাণের আবাদ হয়েছে। যদি হ্রদের পানি আরো আগে থেকে কমতো তাহলে চাষা বাদ জমির পরিমাণ আরো বাড়তো।

তিনি আরো বলেন, কৃষকেরা এরপরও চাষ করে কিন্তু আমরা তা আমাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিনা কারণ ঐ চাষ থেকে ফলন পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা থাকেনা।