আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত নিত্যপণ্য না কেনার আহ্বান ক্যাবের

  |  রবিবার, এপ্রিল ৪, ২০২১ |  ৮:১২ অপরাহ্ণ

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে লকডাউনকালে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত নিত্যপণ্য ক্রয় ও মজুদ না করার আহ্বান জানিয়েছেন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও নগর কমিটির নেতারা।

রোববার (৪ এপ্রিল) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, নগরের সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি আবদুল মান্নান এ আহ্বান জানান।

ক্যাব নেতারা বলেন, গতবছরও একই ভাবে অনেক ভোক্তা লকডাউনের ঘোষণা দেওয়ার পর একসঙ্গে অনেক নিত্যপণ্য এমনকি চাল, ডাল, আলু, ভোজ্যতেল, সাবান, হ্যান্ডস্যানিটাইজার, স্যাভলন, ডেটল, ওষুধ, অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুদ করে নিজের বাসগৃহকে গুদামে পরিণত করেন। কিন্তু ২ মাস যেতে না যেতেই পণ্যগুলি মেয়াদোত্তীর্ণ কিংবা নষ্ট হতে শুরু করে। আবার একসঙ্গে এভাবে হুমড়ি খেয়ে পণ্য কিনতে ঝাঁপিয়ে পড়ায় ব্যবসায়ীরা দাম ২-৩ গুণ বাড়িয়ে দেন। ফলে ক্রেতারা বেশি দামে কিনতে বাধ্য হন। কিন্তু ১ মাস যেতে না যেতেই দাম কমে অর্ধেকে নেমে আসে।

তারা বলেন, পবিত্র ধর্ম ইসলামে পণ্য মজুদকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। তারপরও অনেকে পবিত্র রমজান সামনে রেখে মজুদ ব্যবসায় নেমে পড়েন। আর এভাবে মজুদ করার কারণে প্রান্তিক ও স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীও তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে জটিলতার সম্মুখীন হয়। নিজের সুবিধার্থে অন্যের জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা কোনো ধর্মই সমর্থন করে না। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে নিত্যপণ্যের আমদানি ও মজুদ যথেষ্ট সে কারণে পণ্য নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।

ক্যাব নেতারা বলেন, পবিত্র রমজান এলেই আমাদের দেশের কিছু ধনাঢ্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতা করে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করে থাকেন। আবার অনেকে বেশি বরকত লাভের আশায় ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে থাকেন। কিন্তু পুরো রমজান মাসজুড়ে সাধারণ দরিদ্র মানুষ যেন ইফতার ও সেহেরি সাশ্রয়ী মূল্যে খেতে পারেন তার জন্য কিছু না করে অনেকটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা সুনাম কুড়ানোর জন্য এসব আয়োজনে সাধারণ মানুষের একবেলা ইফতার জুটলেও পুরো মাসে ইফতার সামগ্রীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের চরম ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়। সেখানে তারা কোনো ভূমিকা না রেখে নিজের কর্তৃত্ব জাহির করার জন্য ইফতার সামগ্রী বিতরণের আয়োজন করে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় তেমন সহায়ক ভূমিকা রাখছে না।

দান হিসেবে ইফতার সামগ্রী দেওয়ার কারণে এ সব সামগ্রীর জোগান ও সরবরাহে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়ে থাকে। তাই ইফতার সামগ্রীর পরিবর্তে নগদ অর্থ দিলে দরিদ্র মানুষ তার প্রয়োজন অনুযায়ী কেনাকাটা করতে পারবে। অথচ দান-খয়রাত ও জাকাত দরিদ্র মানুষের প্রতি করুণা নয়, বরং এটা তাদের অধিকার হলেও জাকাতের কাপড় বিতরণের সময় প্রতিবছর প্রাণহানিও ঘটে। ইফতার সামগ্রী বিতরণকালে অনেক সময়েরও অপচয় হয়ে থাকে।