শর্ত মেনে চট্টগ্রামে গণপরিবহন চলাচল শুরু

  |  বুধবার, এপ্রিল ৭, ২০২১ |  ১২:১৪ অপরাহ্ণ

লকডাউন ঘোষণার দুইদিন পর গণপরিবহন চালু হওয়ায় দুর্ভোগ কমেছে অফিসগামী যাত্রীদের। স্বাস্থ্যসুরক্ষা মানতে অর্ধেক যাত্রী পরিবহন এবং ৬০ শতাংশ ভাড়াও কার্যকর রয়েছে।

বুধবার (৭ এপ্রিল) সকাল থেকে এমন চিত্র ছিল নগরের পরিবহনগুলোতে। গণপরিবহন চালু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নগরবাসী। তবে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

মৌমিতা জান্নাত নামে এক যাত্রী বলেন, ভাড়া বেশি হলেও অন্তত কোনো কাজে বাসা থেকে বের হলে গণপরিবহন পাওয়া যাচ্ছে। এটা স্বস্তির বিষয়। পরিবহন বন্ধ থাকলে কিছুই করা যায় না।

রবিউল ইসলাম নামে অফিসগামী এক যাত্রী বলেন, অবশেষে কষ্টের অবসান হলো। গত দুইদিন অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়ে অনেকটা যুদ্ধে নামতো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের ১৯ মামলা

এদিকে জেলা প্রশাসনের ৬জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নগরের ছয়টি পৃথক স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১৭ হাজার ৫৫০ টাকা জরিমানা ও ১৯টি মামলা দায়ের করেছেন।

মঙলবার (৬ এপ্রিল) বায়েজিদ, খুলশী, মুরাদপুর, অক্সিজেন, এ কে খান মোড়, কর্ণফুলী ও আগ্রাবাদ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করেন তারা। এছাড়াও সাধারণ মানুষের মাঝে মাস্ক বিতরণ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা বিনতে আমিন বায়েজিদ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে পাঁচটি মামলা দায়ের করেন। জরিমানা আদায় করেন পাঁচ হাজার ৬৫০ টাকা।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুমা জান্নাত খুলশী ও মুরাদনগর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তিনটি মামলা দায়ের ও ৭০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল আলম অক্সিজেন মোড় এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে নির্দেশনা প্রদান করেন এবং সাধারণ মানুষের মাঝে মাস্ক বিতরণ করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্ত এ কে খান মোড় এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১০টি মামলা দায়ের করে মোট ১০ হাজার ৭০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোনিয়া হক কর্ণফুলী এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার সময় সাধারণ মানুষ এবং গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করেন এবং জনসাধারণের মাঝে মাস্ক বিতরণ করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হুছাইন মুহাম্মদ আগ্রাবাদ এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে একটি মামলা দায়ের করেন এবং ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় ও মাস্ক বিতরণ করেন।

পরিবহন মালিকরা জানান, নির্দেশনা মেনে ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অর্ধেক আসন খালি রেখে গণপরিবহন চলাচল করছে। প্রতি ট্রিপের শুরু এবং শেষে জীবাণুনাশক দিয়ে গাড়ি জীবাণুমুক্ত এবং পরিবহন সংশ্লিষ্ট ও যাত্রীদের বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমন্বয়কৃত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করতে বলা হয়েছে।