অনলাইন প্রশিক্ষণের লেকচার সোশ্যাল মিডিয়ায় গেলে ‘অসদাচরণ’

  |  শনিবার, এপ্রিল ১০, ২০২১ |  ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ

বিশেষ পরিস্থিতি তথা করোনা মহামারির মতো সময় এবং স্বাভাবিক সময়ের জন্য সরকারি চাকরিজীবীদের দেশে-বিদেশে অনলাইন প্রশিক্ষণের জন্য একটি নির্দেশিকা তৈরি করেছে সরকার।

অনলাইন প্রশিক্ষণের কোনো সেশনের ভিডিও এবং অন্যান্য তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্য কোনো অনলাইন ও প্রচলিত মাধ্যমে প্রচার করলে তা হবে অসদাচরণ।

অনলাইন প্রশিক্ষণের পরিধি, অংশগ্রহণকারী, ভাতা ইত্যাদি তুলে ধরে ‘অনলাইন প্রশিক্ষণ নির্দেশিকা-২০২১’ প্রণয়ন করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শেখ ইউসুফ হারুন স্বাক্ষরিত নির্দেশিকায় বলা হয়, এটি গেজেট আকারে প্রকাশের তারিখ থেকে কার্যকর হবে। জনপ্রশাসনের পাশাপাশি অন্যান্য মন্ত্রণালয়ও এটি ব্যবহার করবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা পরিস্থিতির মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ চালু রাখতে এ নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে।

বিশেষ পরিস্থিতি:
‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২’ এর আওতায় যে সময়ের জন্য দুর্গত এলাকা হিসেবে ঘোষিত হয়; ‘সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন ২০১৮’ এর আওতায় যে সময়ের জন্য সংক্রমিত এলাকা হিসেবে ঘোষিত হয় এবং সরকার ঘোষিত অন্য এমন কোনো বিশেষ পরিস্থিতি যখন প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুযোগ থাকে না অথবা সীমিত হয়ে পড়ে।

প্রয়োগ:

‘পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ট্রেনিং পলিসি’র আওতায় দেশে/বিদেশে আয়োজিত প্রশিক্ষণ এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এ নির্দেশিকার বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও আওতাধীন দপ্তর সংস্থা এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয় বিভাগ ও আওতাধীন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনেই নির্দেশিকার বিধান অনুসরণ করতে পারবে।

অনলাইন প্রশিক্ষণ দেওয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান:

সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ; সরকারের সঙ্গে চুক্তি অথবা সরকারের অনুমোদনক্রমে সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির আওতায় দেশের অভ্যন্তরে বিশ্ববিদ্যালয় অথবা বেসরকারি সংস্থা, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়, আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিদেশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং দপ্তরের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর।

অনলাইনে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রে:

স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ (৮ সপ্তাহ পর্যন্ত মেয়াদি) কোর্স: প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসমূহ নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়/বিভাগের অনুমোদনক্রমে নতুন স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ বা আংশিক অনলাইনে পরিচালনা করতে পারবে এবং প্রচলিত স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ বা আংশিক অনলাইনে রূপান্তরের মাধ্যমে পরিচালনা করতে পারবে।

আবশ্যিক/মৌলিক/বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ, মধ্যমেয়াদি প্রশিক্ষণ (৮ সপ্তাহের উর্ধ থেকে ৬ মাস মেয়াদি) এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ (৬ মাসের উর্ষে মেয়াদসম্পন্ন) কোর্স: এরূপ প্রশিক্ষণের প্রস্তুতিমূলক সেশন অনলাইনে পরিচালনা করা যেতে পারে। এছাড়া বিদেশি বিশেষজ্ঞ এবং শারীরিক অসমর্থ্য বা অন্য কোনো কারণে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হতে অপারগ এমন বক্তারা তাত্ত্বিক বিষয়ের সেশন অনলাইনে পরিচালনা করতে পারবেন। তবে অনলাইনে পরিচালিত সেশন সমগ্র কোর্সের ১০ শতাংশের বেশি হবে না।

দপ্তরের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ:

সরকারি দপ্তর প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা এবং অনলাইন প্রশিক্ষণের সক্ষমতা নিরুপণ করে দপ্তর প্রধানের অনুমোদনক্রমে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ অনলাইনে আয়োজন করতে পারবে।

বিশেষ পরিস্থিতিতে বর্ষপঞ্জির অন্তর্ভুক্ত নতুন প্রশিক্ষণ:

পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পূর্ণ অনলাইনে বা মিশ্র পদ্ধতিতে চালু করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে আবশ্যিক মৌলিক প্রশিক্ষণ: সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারীরা চাকরি স্থায়ীকরণ বা পদোন্নতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে নতুন কোর্স অনলাইনে চালু করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে কোর্সের কমপক্ষে ৩০ শতাংশ প্রচলিত পদ্ধতিতে পরিচালনা করতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতি যদি এতটাই বিরূপ হয় যে কোর্সের কমপক্ষে ৩০ শতাংশ কোনোভাবেই প্রচলিত পদ্ধতিতে পরিচালনা করা সম্ভব নয় তা হলে নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়/বিভাগ পরিস্থিতি পর্যালোচনাক্রমে সংশ্লিষ্ট কোর্সের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।

স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ (৮ সপ্তাহ পর্যন্ত মেয়াদি) কোর্স: অনলাইনে রূপান্তরের মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসমূহ উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারবে।

মধ্যমেয়াদি প্রশিক্ষণ (৮ সপ্তাহের উর্ষ থেকে ৬ মাস মেয়াদি) কোর্স: সাধারণভাবে মধ্যমেয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স প্রচলিত পদ্ধতিতে শুরু করাকে উৎসাহিত করা হবে। তবে ক্যাডার সংশ্লিষ্ট বা অন্যান্য পেশাগত প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চাকরি স্থায়ীকরণের বাধ্যবাধকতা থাকলে বা চাকরি স্থায়ীকরণ অথবা পদোন্নতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে নতুন কোর্স অনলাইনে চালু করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে অনলাইনে পরিচালনা করা সম্ভবপর নয় এরূপ সেশনসমূহ প্রচলিত পদ্ধতিতে পরিচালনা করতে হবে।

দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ (৬ মাসের ঊর্ধ্বে মেয়াদ সম্পন্ন) কোর্স: এরূপ কোর্সসমূহ সাধারণভাবে অনলাইনে শুরু করা যাবে। তবে অনলাইনে শুরু করা অপরিহার্য হলে নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়/বিভাগের অনুমোদনক্রমে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে।

দপ্তরের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ: সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা এবং অনলাইন প্রশিক্ষণের সক্ষমতা নিরুপণপূর্বক দপ্তর প্রধানের অনুমোদনক্রমে বাৎসরিক ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণের অন্তর্ভুক্ত অথবা বহির্ভূত অভ্যন্তরীণ (ইন হাউজ) প্রশিক্ষণ অনলাইনে আয়োজন করতে পারবে।

বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষণ স্থগিত:

বিশেষ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পূর্ব থেকে চলমান কোর্স পরিস্থিতি বিবেচনায় সম্পূর্ণ অনলাইনে বা মিশ্র পদ্ধতিতে চালু করা যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি (৬ মাসের উর্ধে মেয়াদসম্পন্ন) প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ অনলাইনে সমাপ্ত করা যাবে।

অনলাইনে উচ্চশিক্ষার অনুমোদন এবং প্রেষণ/অধ্যয়ন ছুটি মঞ্জুর:

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত না হয়ে অনলাইন মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের অনুমতি দেওয়া যাবে না এবং প্রেষণ/অধ্যয়ন ছুটি মঞ্জুর করা যাবে না। বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষণের যেকোনো পর্যায়ে সর্বোচ্চ একটি সেমিস্টার পর্যন্ত অনলাইনে সম্পন্ন করার জন্য অনুমোদন দেওয়া ও প্রেষণ/অধ্যয়ন ছুটি মঞ্জুর করা যাবে।

কর্মকালীন প্রশিক্ষণ ও পেশাগত ডিগ্রি অর্জন:

দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অনলাইন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দেশি প্রতিষ্ঠান অথবা স্বীকৃত আন্তর্জাতিক পেশাগত সংস্থা পরিচালিত পেশাগত ডিগ্রি, ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট কোর্সে অংশগ্রহণ অথবা সার্টিফিকেট অর্জন করা যাবে। তবে এক্ষেত্রে কোর্সের মেয়াদ সর্বোচ্চ এক মাসের অধিক হবে না।

জাতিসংঘ এবং অন্যানা আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক আয়োজিত অনলাইন প্রশিক্ষণে সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীদের অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া যাবে।

অনলাইনে অংশগ্রহণকৃত কর্মকালীন প্রশিক্ষণ এবং অর্জিত পেশাগত ডিগ্রির তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারীর ডোশিয়ার/পিআইএমএস-এ অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।

মূল্যায়ন:

প্রশিক্ষণার্থী কর্মচারীদের অনলাইনে লিখিত পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট বা অন্য কোনো মূল্যায়ন প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হলে নির্ধারিত মানদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান অনলাইন মূল্যায়ন প্রক্রিয়া-সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রণয়ন করে অনলাইন প্রশিক্ষণ শুরুর পূর্বেই প্রশিক্ষণার্থীদের অবহিত করবে।

প্রশিক্ষণ ভাতা:

কোর্স কনটেন্ট, কোর্সের মেয়াদ, ক্লাস সেশনের সময় প্রচলিত পদ্ধতির ন্যায় অপরিবর্তিত থাকলে প্রশিক্ষণার্থীদের দৈনিক ভাতা অপরিবর্তিত থাকবে। এক্ষেত্রে মোবাইল ডাটা, কম্পিউটার, প্রিন্টিং এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় প্রশিক্ষণ ভাতা থেকে নির্বাহ করতে হবে। অন্যান্য ভাতা অপরিবর্তিত থাকবে।

প্রশিক্ষকের সম্মানী:

যুগপৎ শিক্ষণ পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করা হলে প্রশিক্ষকরা প্রচলিত পদ্ধতির সমপরিমাণ ঘণ্টাভিত্তিক সম্মানী প্রাপ্য হবেন।

অসমনিয়ত শিক্ষণ পদ্ধতিতে ভিডিও রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করার ক্ষেত্রে দীর্ঘ পূর্বপ্রস্তুতি (কন্টেন্ট প্রস্তুত, স্ক্রিপ্ট তৈরি, ভিডিও ধারণ ইত্যাদি কাজে) প্রয়োজন হলে প্রশিক্ষকদের প্রচলিত সম্মানীর সমপরিমাণ থেকে সর্বোচ্চ দ্বিগুণ পরিমাণ পর্যন্ত ঘণ্টা ভিত্তিক সম্মানী দেওয়া যাবে।

প্রশিক্ষণ সফটওয়্যার তৈরি ও ব্যবহার:

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অনলাইন প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করবে এবং আওতাধীন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ পরিচালনা ও পরিবীক্ষণে উক্ত সফটওয়্যার ব্যবহার করবে।

প্রশিক্ষণের তথ্য অননুমোদিতভাবে প্রচার:

অনলাইন প্রশিক্ষণ চলাকালে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং প্রশিক্ষকের অনুমোদন ব্যতীত কোনো সেশনের ভিডিও এবং অন্যান্য তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্য কোনো অনলাইন ও প্রচলিত মাধ্যমে প্রচার করা যাবে না। এরূপ অননুমোদিত প্রচার করা হলে তা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করা হবে।

অনলাইন প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে ব্যবহৃত ভিডিও রেকর্ড, স্ক্রিপ্ট ইত্যাদি বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ ও স্বত্বের ক্ষেত্রে ‘কপিরাইট আইন-২০০০’ এবং এ লক্ষ্যে প্রণীত অন্যান্য প্রচলিত আইন এবং বিধি-বিধান অনুসরণ করতে হবে। এছাড়ও তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।