বাঁশখালীতে বোরো ধানের বাম্পার ফলন,তবুও দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

  |  সোমবার, এপ্রিল ১২, ২০২১ |  ১০:৩২ অপরাহ্ণ

আর দুই সপ্তাহ পরেই সোনা রঙে ভরে উঠবে বোরো ধানের খেত। শুরু হবে ধান কাটার উৎসব। গ্রামে গ্রামে ব্যস্ত হয়ে উঠবেন কৃষাণ-কৃষাণি আর কৃষি শ্রমিকরা। গেল কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে বাঁশখালীতে।চাষিরা বলছেন এ মৌসুমের বোরো ধান যেন তাদের কাছে প্রকৃতির আশীর্বাদ।তারপরও কৃষকের কপালে চিন্তার ভাজ। করোনা কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ধানের ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়েই তাদের দুশ্চিন্তা।

বাঁশখালী উপজেলার সরল এলাকার কৃষাণী রাবেয়া বলেন, ‘গতবারের তুলনায় এবার বোরো ধানের ফলন ভাল হয়েছে। কিন্তু এ ফসল কোথায় বিক্রি করবো সবকিছু তো বন্ধ। এটা নিয়ে চিন্তায় আছি।’

আরেক কৃষক আব্দুল কাদের বলেন,‘আমি এবার হাইব্রিড ও উফশী ধানের জাত চাষ করেছি। আমি প্রতি বছর ধানের জাত পরিবর্তন করে ধান চাষ করে থাকি। এবছরও দুই বিঘা জমিতে ভাল ফসল উৎপাদন হয়েছে।

বাঁশখালীর চাম্বল ইউনিয়ন গ্রামের কৃষক উৎপল চন্দ্র বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের গ্রামের কৃষকরা সবাই আতঙ্কে আছেন। কারণ, আমরা জমিতে ধান, বিভিন্ন সবজি চাষ করলেও গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় খুবই চিন্তায় আছি।’

বাঁশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু ছালেক বলেন,এই বছর বাঁশখালীতে বোরো মৌসুমে হাইব্রিড ধানের চাষ হয়েছে ২ হাজার ৭৬৫ হেক্টর,উফশী ধানের চাষ হয়েছে ৩ হাজার ৫৬০ হেক্টর,এবং সব মিলিয়ে বাঁশখালীতে ৬ হাজার ৩২৫ হেক্টর।এই বছর ৫০ হাজার মেট্রিক টন বোরো ধানের ফলন লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার আমাদের শতভাগ লক্ষমাত্রা অর্জন হয়েছে। ধানে রোগবালাই ও পোকা মাকড়ের উপদ্রবও কম ছিল।’

তিনি আর বলেন, ‘ক্ষুদ্র প্রান্তিক চাষিরা এসময়ে পণ্য বাজারে নিয়ে বিক্রয় করে স্বল্প আয় করতো। কিন্তু করোনার ভাইরাসের কারণে তা এখন ব্যহত হচ্ছে।’