চট্টগ্রামে লকডাউনের নির্দেশনা বাস্তবায়নে তৎপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

  |  বুধবার, এপ্রিল ১৪, ২০২১ |  ১১:০২ পূর্বাহ্ণ

সরকার ঘোষিত ৮ দিনের লকডাউনের প্রথমদিন নগরজুড়ে দেখা গেছে আদেশ পালনের প্রবণতা। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে বের হচ্ছেন না কেউ।

গণপরিবহন বন্ধ থাকায় গুটিকয়েক রিকশা চলাচল করছে সড়কে।

বুধবার (১৪ এপ্রিল) রমজান মাস শুরু হওয়ায় অনেকে রোজা রেখেছেন। পাশাপাশি পহেলা বৈশাখের আয়োজন স্থগিত করায় নগরবাসীকে ঘরেই থাকতে হচ্ছে। অবশ্য শিল্প কারখানা খোলা থাকায় গার্মেন্টস কর্মীদের কাজে যেতে হচ্ছে। লেনদেনের সুবিধার্থে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত খোলা থাকছে ব্যাংকও।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ২১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত সব সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত অফিস এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এছাড়া বন্ধ থাকবে শপিংমল।

অন্যদিকে কাঁচাবাজারে কেনাবেচা হবে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত। হোটেল-রেস্তোরাঁ নির্দিষ্ট সময় শুধু খাবার বিক্রি, সরবরাহ করতে পারবে। এই সময় অতি জরুরি দরকার ছাড়া ঘরের বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে টিকা কার্ড দেখিয়ে টিকা নিতে যাওয়া যাবে।

এছাড়া বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থল বন্দর এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিসগুলো নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন: কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর (স্থল, নদী ও সমদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম, বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন নিষেধাজ্ঞার আওতা বহির্ভূত থাকছে।

অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কেবল খাদ্য বিক্রয়/সরবরাহ করা যাবে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম থেকে চলমান কন্টেনার ও খাদ্যবাহী ট্রেনের পাশাপাশি বুধবার (১৪ এপ্রিল) থেকে চলছে বিশেষ পার্সেল ট্রেন। বিকেল ৩টায় ছাড়বে ট্রেনটি এবং সেটি সরিষাবাড়ী পৌঁছবে ভোর সাড়ে ৪টায়।

সরিষাবাড়ী থেকে একটি ট্রেন ছাড়বে ভোর সাড়ে ৫টায় এবং সেটি চট্টগ্রাম পৌঁছবে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে। এছাড়া অপর একটি ট্রেনে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সরিষাবাড়ী ও চট্টগ্রাম-সিলেটের মধ্যে পরিবাহিত পার্সেল মালামাল ভৈরববাজার ও আখাউড়া স্টেশনে ল্যাগেজ ভ্যান সংযোজন/বিয়োজনের মাধ্যমে গন্তব্যে প্রেরণ করা হবে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা স্নেহাশীষ দাশগুপ্ত জানান, চট্টগ্রাম থেকে প্রতিদিন ৭ থেকে ৮টি নিয়মিত কন্টেইনার ও খাদ্যবাহী ট্রেন চলাচল করছে। আগে যেখানে একটি কন্টেইনারবাহী ট্রেন ঢাকায় যেতে ২৫ ঘণ্টা লাগতো, এখন যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় ১২ ঘণ্টায় ঢাকায় পৌঁছে যাচ্ছে। পাশাপাশি পার্সেল ট্রেনও চলাচল শুরু হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি পণ্যও পরিবহন করবে ট্রেনটি।