চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে ‘বার্মা সাইফুল’কে সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। একই অভিযানে তার সহযোগী শিহাব উদ্দিনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচলাইশ মডেল থানার পৃথক অভিযানে সাইফুলের আরও দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী—রিয়াদ হোসেন (২৮) ও মীর হোসেন ওরফে লিংকন (৩১)—কে আটক করা হয়েছে।
সিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পাঁচলাইশ থানাধীন আতুরারডিপো এলাকায় সংঘটিত আলোচিত স্বর্ণের বার দস্যুতার ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ চৌকস টিম কাজ করছিল। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গোপন সংবাদের মাধ্যমে গত ১২ জানুয়ারি ঢাকার গুলশান থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে বার্মা সাইফুল এবং তার সহযোগী শিহাব উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর আসামিদের নিয়ে লুণ্ঠিত স্বর্ণের অবশিষ্ট ছয়টি বার উদ্ধারের লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় শিহাব উদ্দিনের হেফাজত থেকে ঘটনার কাজে ব্যবহৃত একটি ইয়ামাহা আর-১৫ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৪ ধারায় মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বার্মা সাইফুলের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে ২টি, প্রতারণায় ২টি, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ে ৫টি, অপহরণে ১টি, দস্যুতায় ১টি, বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৩টি, বিস্ফোরক আইনে ২টি এবং মারামারি ও জখম সংক্রান্ত ১৮টিসহ মোট ৩৪টি মামলা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে আরও ৭টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তার সহযোগী শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে রয়েছে প্রতারণার ৫টি ও দস্যুতার ১টি মামলা।
এদিকে, পাঁচলাইশ মডেল থানার আরেকটি বিশেষ অভিযানে সাইফুলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রিয়াদ হোসেন ও মীর হোসেন ওরফে লিংকনকে নগরের হিলভিউ এলাকা থেকে আটক করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদের বিরুদ্ধে চুরি ও দস্যুতাসহ ৫টি এবং লিংকনের বিরুদ্ধে মাদক, চুরি, দস্যুতা ও ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে ৫টি মামলা রয়েছে।
পুলিশের দাবি, বার্মা সাইফুল ও তার দল দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। স্বর্ণের বার লুণ্ঠনের ঘটনায় এ পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে ২৯টি স্বর্ণের বার (মোট ২৯০ ভরি) এবং ঘটনায় ব্যবহৃত ২টি মোটরসাইকেল।
উল্লেখ্য, শীর্ষ সন্ত্রাসী বার্মা সাইফুলকে গ্রেপ্তার নিয়ে শুরুতে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। গত সোমবার তার ভাই ফাহিম অভিযোগ করেন, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ঢাকায় অবস্থানকালে সাইফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে একজন পুলিশ সদস্য ফোনে জানালেও পরবর্তীতে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তখন কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অবশেষে সিএমপির আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় ওই ধোঁয়াশার অবসান ঘটে।
উল্লেখ করা যায়, বার্মা সাইফুল চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পুলিশ জানায়, এর আগেও অস্ত্র, মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
ফারুক, চট্টলা২৪

