পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে বাঙালি মুসলমানদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের ২নং গেইট বিপ্লব উদ্যান প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে হালুয়া-রুটি বিতরণ উৎসব। মুসলিম সংস্কৃতি আন্দোলনের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি মঙ্গলবার সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে শবে বরাতকে কেন্দ্র করে বাঙালি মুসলমানদের ঐতিহ্যবাহী হালুয়া–রুটি বিতরণের ইতিহাস, সাংস্কৃতিক তাৎপর্য ও সামাজিক গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা। তাঁরা বক্তব্যে শৈশবের স্মৃতিচারণের মাধ্যমে এই সংস্কৃতির সঙ্গে মানুষের আবেগ, পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক সম্প্রীতির বিষয়টি তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে মুসলিম সংস্কৃতি আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সংগঠনের সদস্য এবং সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। হালুয়া–রুটি বিতরণকে ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আবাল–বৃদ্ধ–বনিতা সকলের অংশগ্রহণে মনে হয়েছে, বাঙালি মুসলমানদের হারিয়ে যেতে বসা একটি ঐতিহ্য যেন আবার নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তব্যে মুসলিম সংস্কৃতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মুহাম্মদ সৈয়দুল হক বলেন, “কুরআন-সুন্নাহর অকাট্য প্রমাণের বাইরেও শবে বরাতের একটি সুস্পষ্ট ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। এ অঞ্চলে ইসলামের আগমনের পর থেকেই এই রাতটি বিশেষ মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে মোগল আমলে শবে বরাত উপলক্ষে হালুয়া-রুটি বিতরণের সংস্কৃতি চালু হয়, যা পরবর্তীতে নবাবী ও ব্রিটিশ আমলেও ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু বঙ্গ অঞ্চলেই নয়, আরব বিশ্ব, মিশর, মরক্কো এবং ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলেও এই উপলক্ষে মিষ্টান্ন বিতরণের ঐতিহাসিক নজির রয়েছে। ইবনে বতুতা সহ বহু ঐতিহাসিক গ্রন্থে এর উল্লেখ পাওয়া যায়। অথচ একটি গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের সাংস্কৃতিক চর্চাকে ‘নবউদ্ভাবন’ বা ‘বিদআত’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।”
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয়- এই সংস্কৃতিগুলো কোনো নতুন আবিষ্কার নয়; বরং সামাজিক ও ধর্মীয় অনুশীলনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি ঐতিহ্য। হারিয়ে যেতে বসা এসব সাংস্কৃতিক চর্চার পুনর্জাগরণের লক্ষ্যেই এই হালুয়া–রুটি বিতরণ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ফারুক, চট্টলা২৪

