চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া) আসনে ভোট গ্রহণের সময় বিকেল ৪টার পর বিভিন্ন কেন্দ্রে কারচুপি ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অলি আহমদ।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব অভিযোগ তোলেন।
এই আসনে তার ছেলে ওমর ফারুক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী জসীম উদ্দিন আহমেদ। তিনি পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৪৯৩ ভোট। ওমর ফারুক পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৪৬৭ ভোট। মোট আটজন প্রার্থী এ আসনে অংশ নেন।
ভিডিও বার্তায় অলি আহমদ বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ভোটে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিলেও বিকেল সাড়ে ৪টার পর পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়।
তার অভিযোগ, হাশিমপুর তরুণ সংঘ স্কুল, হাশিমপুর বড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দোহাজারী আবদুর রহমান উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে কয়েকশ অপরিচিত ব্যক্তি জোরপূর্বক ব্যালট পেপার বাক্সে ঢুকিয়েছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ওই সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলডিপির দায়িত্বশীল নেতাকর্মীদের কেন্দ্রে প্রবেশ ও তদারকি করতে বাধা দেন।
অলি আহমদের ভাষ্য, “আড়াইটা-তিনটার পর থেকে আমাদের কেন্দ্রের বাইরে দায়িত্বরত নেতাকর্মীদের মারধর করা হয়েছে। প্রশাসনকে বারবার জানানো সত্ত্বেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।”
অলি আহমদ অভিযোগ করেন, বিজয়ী প্রার্থী জসীম উদ্দিন সন্ধ্যার আগে ও পরে প্রায় ৩০-৪০টি মাইক্রোবাস ও ট্রাক নিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে মিছিল করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও তাকে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
এছাড়া তার অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একতরফাভাবে কাজ করেছে। এর ফলে ওমর ফারুকের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ভোট বাতিল ঘোষণা করা হয়। এজেন্টরা চ্যালেঞ্জ করলেও কেন বা কীভাবে ভোট বাতিল করা হয়েছে, তা দেখানো হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
অলি আহমদ বলেন, “এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে আমাদের প্রার্থীকে পরাজিত করার জন্য করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের কেউ পরাজিত হয়নি। মুক্তিযোদ্ধা বা তার সন্তান কখনো সত্যিই পরাজিত হয় না। এখানে পরাজিত হয়েছে টাকা ও নির্বাচনী এলাকার কিছু লোক।”
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে টহল ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা বিজয়ী প্রার্থীর কোনো বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে।
ফারুক, চট্টলা২৪

