রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

চট্টগ্রামে চার ধরনের জ্বরে আক্রান্ত মানুষ, বেশি চিকুনগুনিয়া

চট্টগ্রামে চার ধরনের জ্বরের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। এছাড়া ডেঙ্গু, সাধারণ ভাইরাস জ্বর (ফ্লু) এবং করোনাভাইরাস সংক্রমণও বাড়ছে। আক্রান্তদের মধ্যে উচ্চমাত্রার জ্বর, অস্থিসন্ধিতে তীব্র ব্যথা, ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ এবং দীর্ঘস্থায়ী জয়েন্ট পেইনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় প্রতিটি এলাকায় জ্বরের রোগী রয়েছে। চিকুনগুনিয়ার রোগীই সংখ্যায় বেশি।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন, যার মধ্যে ৭০ শতাংশই চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত। হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক হামিদুল্লাহ মেহেদী বলেন, এই মুহূর্তে চিকুনগুনিয়া সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। জ্বরের সঙ্গে জয়েন্টে ব্যথা, হাড় ফুলে যাওয়া, র‍্যাশ—এসব উপসর্গ থাকলে চিকুনগুনিয়ার আশঙ্কা বেশি।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালেও জ্বরের রোগীর চাপ বেড়েছে। প্রতিদিন অন্তত দুই হাজার জ্বরের রোগী আসছেন বলে জানা গেছে। মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আবদুস সাত্তার জানান, ‘চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গু, ভাইরাস জ্বর ও করোনা—সব মিলিয়ে এখন চার ধরনের জ্বর দেখা যাচ্ছে। উপসর্গ দেখে বোঝা যাচ্ছে, এবারে চিকুনগুনিয়ার প্রকোপই বেশি। তবে পিসিআর পরীক্ষার সুযোগ সীমিত থাকায় সুনির্দিষ্টভাবে আলাদা করে শনাক্ত করা কঠিন।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকুনগুনিয়ার জ্বর সাধারণত চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে সেরে যায়, তবে জয়েন্টের ব্যথা দুই সপ্তাহ থেকে দুই মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে অ্যান্টিবডি পরীক্ষার মাধ্যমে জ্বর সেরে যাওয়ার এক সপ্তাহ পর রোগ শনাক্ত হয়।

ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। চলতি জুন মাসে চট্টগ্রামে ১৭৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যা বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। চলতি বছর জেলার মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪৫ জন, মৃত্যু হয়েছে ২ জনের।

অধ্যাপক আবদুস সাত্তার বলেন, ‘২০১৭ সালেও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ বেশি ছিল, তখন ডেঙ্গুর প্রকোপ তুলনামূলক কম ছিল। এবারে সেই চিত্রটাই দেখা যাচ্ছে। তবে ডেঙ্গুর মৌসুম এখনো শেষ হয়নি।

সরকারি হাসপাতালে জ্বর নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকলেও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে তা বেশি। আগ্রাবাদ মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে গতকাল পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ভর্তি ছিলেন ১৩ জন।

এদিকে জুন মাসে চট্টগ্রামে নতুন করে ১৩৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন ৭ জন।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, করোনার সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে আছে। ডেঙ্গুও তুলনামূলক কম। তবে বর্ষাকালে যত্রতত্র পানি জমে থাকলে এডিস মশার প্রজনন বাড়বে। এতে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকিও বাড়বে।

চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলেছেন, ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে ব্যথানাশক ওষুধ বেশি খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। তাই জ্বর হলে নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

চট্টলা২৪/হহ

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার পূজা চেরীর বাবা, বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী

চলচ্চিত্র প্রযোজনার নামে ১৩ কোটির বেশি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে...

চট্টগ্রামে পাঁচজনসহ দেশে হাম উপসর্গে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু

হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১১ শিশুর...

শিক্ষার্থীরা ভাইরাল হতে চায়: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষার্থীরা নৈতিকতা বিবর্জিত জায়গায় যাচ্ছে, তারা ভাইরাল হতে চায়...

উপকূলীয় অঞ্চল নিয়ে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আছে: মীর হেলাল

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর...