মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের এক সপ্তাহ পার হলেও ইরানকে ঘিরে সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১,৩৩২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (৭ মার্চ) ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরানে নতুন করে শক্তিশালী বোমাবর্ষণের পর হতাহতের সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের তিন হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় ইরানের ৪৩টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংসের দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করেছেন। তিনি বলেন, আত্মসমর্পণ ছাড়া অন্য কোনো সমঝোতার সুযোগ নেই।
এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী এখনো খোলা রয়েছে। তবে কোনো মার্কিন বা ইসরায়েলি জাহাজ ওই পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলে সতর্ক করেছে তারা। একই সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে যোগ দিলে তারাও প্রতিশোধমূলক হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে সমর্থন দিয়েছেন এবং গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা।
সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোতেও পড়তে শুরু করেছে। কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। কাতার জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ১০টি ড্রোনের মধ্যে ৯টি ভূপাতিত করা হয়েছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কাছেও একাধিক ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে আশ্বস্ত করেছেন যে, প্রয়োজনে সৌদি আরবকে রক্ষায় ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান ও নৌবাহিনী মোতায়েন করা হবে।
এদিকে ইরান থেকে ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে ইসরায়েলের তেল আবিব ও নেগেভ অঞ্চলে বারবার সাইরেন বেজে উঠছে। লেবাননে ইসরায়েলি অভিযানের জবাবে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা চালিয়েছে। দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত ২১৭ জন নিহত হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের ধারণা, এই সামরিক অভিযান চার থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে অভিযানের প্রথম ১০০ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। সূত্র: আল-জাজিরা
ফারুক, চট্টলা২৪

