চট্টগ্রাম জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ২৮ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকালে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুসারে, নতুন ২৮ জনসহ হাসপাতালগুলো হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এদিকে আজ রোববার থেকে দেশের ১৮ জেলায় হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। তবে চট্টগ্রাম জেলা সে তালিকায় নেই।
সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনামন্ত্রী মহোদয় জানিয়েছেন, দেশের ১৮ জেলার ৩০টি নির্ধারিত উপজেলায়, যেখানে সংক্রমণ হার বেশি, সেসব উপজেলায় প্রথম পর্যায়ের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। চট্টগ্রাম জেলার কোনো এলাকা এর আওতায় নেই। তাই চট্টগ্রামের সব উপজেলায় চলমান ‘কেস সার্চিং’ ও ‘ড্রপ আউট’ শিশুর টিকাদান ও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সাপ্লিমেন্ট চালু থাকবে। ‘ড্রপ আউট’ তালিকার শিশুদের এবার (হাম–রুবেলা) টিকা ও হামের লক্ষণ থাকা রোগীদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কার্যক্রম চলবে।
গতকাল ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ২৬ জনই চিকিৎসা নিচ্ছে চট্টগ্রাম নগরীর হাসপাতালগুলোতে। এখন পর্যন্ত জেলায় যে ১২ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, এদের ৮ জনই নগরীর বাসিন্দা। বাকিরা বিভিন্ন উপজেলার।
গতকাল আরো ৩১ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। হাম শনাক্তের জন্য এখন পর্যন্ত ১৮৬ জনের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। চট্টগ্রামে হাম শনাক্তের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় শিশুদের নমুনা ঢাকায় পাবলিক হেলথ ইনস্টিটিউটের (আইপিএইচ) ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলস–রুবেলা ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয় বলে সূত্র জানিয়েছে।
এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুজন কক্সবাজার জেলার, একজন নোয়াখালীর। এছাড়া ২৯ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত ২৮ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে বলে সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে।
জুনায়েদ/চট্টলা২৪

