শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

নিজেকে বিসিবির বৈধ সভাপতি দাবি করে আইসিসির হস্তক্ষেপ চাইলেন বুলবুল

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) একমাত্র বৈধ সভাপতি হিসেবে নিজেকে দাবি করেছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) গঠিত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনকে ত্রুটিপূর্ণ ও অবৈধ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। তার মতে, নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা একটি ‘সাংবিধানিক অভ্যুত্থান’।

মঙ্গলবার (৯ে এপ্রিল) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আমিনুল ইসলাম বুলবুল এসব দাবি করেন। একই সঙ্গে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বুলবুলের সই করা ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বিষয়বস্তু ছিল—’তথাকথিত তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান এবং ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার’। নিজেকে যথাযথভাবে নির্বাচিত বিসিবি সভাপতি দাবি করে তিনি বলেন, ‘এনএসসির এই তদন্ত বিদ্বেষপ্রসূত।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০২৬ সালের ৫ এপ্রিল জমা দেওয়া ওই প্রতিবেদনটি একটি ত্রুটিপূর্ণ ও আইনত ভিত্তিহীন দলিল। বিসিবির গঠনতন্ত্রে এর কোনো বৈধতা নেই।’

বিসিবির গত নির্বাচনে কোনো ধরনের দুর্নীতি, কারচুপি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক।
নির্বাচনটি পুরোপুরি বিসিবির গঠনতন্ত্র মেনে হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘১৫টি ক্লাব এবং তামিম ইকবালের কাউন্সিলর পদসহ যেসব আপত্তি উঠেছিল, তা ২০২৫ সালের ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাসম্পন্ন কিছু সাবেক খেলোয়াড় বোর্ডকে অস্থিতিশীল করতে ‘ইলেকশন ফিক্সিং’-এর যে গল্প ছড়াচ্ছেন, তা সম্পূর্ণ বানোয়াট।’

এনএসসি কমিটির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হককেও এর জন্য দায়ী করেন বুলবুল।

তিনি বলেন, ‘বিসিবির মতো একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে তদন্ত করার কোনো এখতিয়ার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নেই। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, সদস্য বোর্ডগুলোকে সরকারি হস্তক্ষেপমুক্ত থাকতে হয়। প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের নির্দেশে শুরু হওয়া এই তদন্ত কোনো আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কাজ। তাই এই প্রতিবেদনটি বাতিল ও অকার্যকর।’

তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন অ্যাডহক কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করে বুলবুল বলেন, ‘এখানে আইসিসির নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।’

বুলবুল বলেন, ‘চরম কোনো পরিস্থিতি ছাড়া নির্বাচিত কোনো পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা এনএসসির নেই। আমরা এই অ্যাডহক কমিটিকে স্বীকৃতি দিচ্ছি না এবং অবিলম্বে আইসিসিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানাচ্ছি।’

এমন পদক্ষেপ দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেবে বলে সতর্ক করেছেন বুলবুল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সরকার আমাদের ক্রিকেটের স্বায়ত্তশাসনের গলায় ছুরি ধরেছে।’

ক্রিকেটের এই অস্থিরতা নতুন খেলোয়াড় তৈরির পথকেও বাধাগ্রস্ত করবে বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, ‘এই অস্থিরতা খেলোয়াড়দের উন্নতির জন্য ভালো নয়। এই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তুলেছে। যখন দেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশে নেমে এসেছে এবং শিল্প উৎপাদন সংকুচিত হচ্ছে, তখন খেলাধুলায় এমন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ অর্থনীতি বা তরুণদের কীভাবে সাহায্য করবে?’

বিবৃতির শেষে আবারও আইসিসির হস্তক্ষেপ কামনা করে অ্যাডহক কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত বোর্ডের মর্যাদা রক্ষায় আমরা অবিলম্বে আইসিসির হস্তক্ষেপ চাইছি। অ্যাডহক কমিটি ও তদন্ত প্রতিবেদন—উভয়ই অবৈধ। ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবরের নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার কোনো সরকারি সংস্থার নেই। কারণ সেই নির্বাচন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ তিন সদস্যের একটি স্বাধীন কমিশন তদারকি করেছিল।’

সবশেষে তিনি বলেন, ‘হাইকোর্ট ভিন্ন কোনো আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত আমিনুল ইসলাম বুলবুলই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি।’

জুনায়েদ/চট্টলা২৪

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

এলএনজি-এলপিজি নিয়ে আগামী সপ্তাহে দেশে আসছে আরও ৫ জাহাজ

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর জ্বালানি সরবরাহের ওপর থেকে চাপ...

অনলাইন গেম খেলার টাকার জন্য বটি দিয়ে মাকে মারধর, সেই ছেলে পুলিশ হেফাজতে

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অনলাইন গেম খেলতে এমবির টাকার জন্য বটকি...

অনিয়মের অভিযোগ এনে শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থীর ভোট বর্জন

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের চলমান নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে...

‘গণবিরোধী’ বিল পাসের অভিযোগে সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১২তম দিনে এসেও আবারও...