উপমহাদেশের অন্যতম আধ্যাত্মিক সাধক, মাইজভাণ্ডারী ত্বরিকার প্রবর্তক, হযরত সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (ক.)’র বার্ষিক ওরশ শরীফে অংশ নিতে আশেকভক্তরা বিভিন্ন জেলা ও উপজেল থেকে দলবেঁধে ঢোল-বাদ্য, গরু, মহিষ, গয়াল, ছাগলসহ বিভিন্ন উপহার নিয়ে দরবারে আগমন করছেন। কেউ হাতে ফুল, কেউ হাতে মোমবাতি নিয়ে উরস শরীফে অংশ নিচ্ছেন।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ফটিকছড়ির মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ-এ ১২০তম ওরশ শরীফ মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হবে। উরসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মনজিলে ইতিমধ্যে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আশেকভক্তদের সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ওরশ শরীফে প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করতে পারেন। আশেকভক্ত ও বিভিন্ন মনজিলের হিসাব অনুযায়ী, ১০ মাঘ ওরশ এক সপ্তাহব্যাপী চলবে এবং সব মিলিয়ে প্রায় ২০ লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে।
উরসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে রওজা শরিফ গোসল ও গিলাফ চড়ানোর মাধ্যমে। শনিবার প্রধান দিবসে কেন্দ্রীয় মিলাদ মাহফিল ও আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে, যা পরিচালনা করবেন স্ব স্ব মনজিলের প্রধানরা। প্রধান দিবসের পাশাপাশি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন মনজিলে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মো. ইব্রাহিম জানান, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, স্পেশাল পুলিশ ফোর্স, পুরুষ-মহিলা আনসার টিম আইনশৃংখলা রক্ষায় দায়িত্বে থাকবে। এছাড়া আশেকভক্তদের সুবিধার্থে মনজিলগুলোর সমন্বয়ে গাড়ি পার্কিং, হোটেল খাবারের দাম নিয়ন্ত্রণ, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগসহ অন্যান্য ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মহান ১০ই মাঘ ওরশ শরীফ উপলক্ষে গাউসিয়া হক মনজিল প্রতিষ্ঠিত শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্টের ১০ দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত আশেকভক্তরা ঢোল-বাদ্য, গরু, ছাগলসহ বিভিন্ন হাদিয়া নিয়ে দরবারে আসছেন।
সরজমিনে দেখা যায়, আশেকভক্তদের সমাগমে মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ মুখরিত হয়ে উঠেছে। রওজা রওজায় চলছে ইবাদত-বন্দেগী, জিকির-আজগার, মিলাদ মাহফিল ও জিয়ারত। ক্যাম্পে ক্যাম্পে ঢোল-বাদ্য ও মাইজভাণ্ডারী কালাম পরিবেশন করা হচ্ছে।
ওরশকে কেন্দ্র করে বসেছে গ্রামীণ লোকজ মেলা। মেলায় পোশাক, রকমারী খাবার, গৃহস্থালি প্রয়োজনীয় সামগ্রী, দা-ছুরি-বটি, বেত সামগ্রী, বেড়া, চাটাই, মাছধরার ফাঁদ, হাতপাখা, মোড়া, ফুলদানি, হাঁড়ি-পাতিলসহ বিভিন্ন জিনিস বিক্রি হচ্ছে। মেলার অন্যতম আকর্ষণ হলো বড় সাইজের জাপানি মূলা, যা স্থানীয়ভাবে ভাণ্ডারী মূলা নামে পরিচিত। মেলায় স্থানীয়দের পাশাপাশি উপজাতিরাও অংশগ্রহণ করছেন।
ফারুক, চট্টলা২৪

