কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় অসুস্থ স্ত্রী ও নবজাতককে হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক স্বামীর বিরুদ্ধে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনার পর মানবিক উদ্যোগ নিয়ে অসহায় মা ও শিশুর পাশে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে নবজাতক কন্যা ও তার মায়ের খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুটির দায়িত্ব গ্রহণের আশ্বাস দেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করেন।
জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল প্রসববেদনা উঠলে গর্ভবতী শাহনাজ বেগম শেলী নিজেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা প্রথমে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা চালালেও জটিলতার কারণে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সন্তান জন্মের পরপরই স্বামী বেলাল আহমেদ স্ত্রী ও নবজাতককে হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যান। এতে অসুস্থ মা ও নবজাতক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।
এরই মধ্যে ২০ এপ্রিল নবজাতকের শরীরে জন্ডিস ধরা পড়ে। পরে তাকে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ)-তে ভর্তি করে ফোটোথেরাপি দেওয়া হয়। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
ঘটনার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং শিশুটির যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেন। পরে নিজেই হাসপাতালে গিয়ে মা ও শিশুর পাশে দাঁড়ান।
এ সময় তিনি নগদ অর্থ সহায়তা ছাড়াও নবজাতকের জন্য শিশু খাদ্য, পোশাক, ডায়াপার, বিছানাসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং মায়ের জন্য পোশাক ও এক মাসের খাদ্যসামগ্রী প্রদান করেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, “বাচ্চাটি এখন সুস্থ আছে। খুব শিগগিরই তাকে মায়ের কাছে দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মা ও শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। কেউ যেন নিজের পরিবারকে এভাবে ফেলে না যায়—এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”
নবজাতকের মা শাহনাজ বেগম বলেন, “আমার স্বামী আগেই বলেছিল, মেয়ে সন্তান হলে রাখবে না। সন্তান জন্মের পর থেকেই সে আর কোনো খোঁজ নেয়নি। আমি নিজেই কষ্ট করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলাম। এখন আল্লাহর রহমতে আমি ও আমার বাচ্চা ভালো আছি।”
তিনি জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “ডিসি স্যার আমাদের পাশে না দাঁড়ালে কী হতো জানি না। তিনি অনেক সহযোগিতা করেছেন।”
প্রতিবেশী আকলিমা আক্তার জানান, জেলা প্রশাসক চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলার পর থেকেই হাসপাতালের সেবায় আরও যত্ন বেড়েছে। এমনকি একজন কর্মচারীকেও সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ও এনআইসিইউ প্রধান ডা. মোহাম্মদ শাহীন বলেন, “প্রতিটি রোগীই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। জেলা প্রশাসক বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন এবং শিশুটির চিকিৎসায় আন্তরিকভাবে অনুরোধ করেছেন। আমরাও সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।”
বর্তমানে নবজাতকটি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলে তাকে মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মানবিক সংকটে প্রশাসনের এমন সরাসরি হস্তক্ষেপ সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়াবে।
জুনায়েদ/চট্টলা২৪

