ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা। দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রথা ভেঙে এবার বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে এই আয়োজন নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে পারে।
সরকারের ঊর্ধ্বতন সূত্র ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এর একাধিক নেতার তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ এবং বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের পর থেকেই শপথ আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির ফল গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে। প্রাপ্ত ফলাফলে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দলের অবস্থানে বসতে যাচ্ছে।
সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন- এ প্রশ্নেও চলছে আলোচনা। বর্তমান স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু দায়িত্ব পালন করতে না পারায় সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াতে পারেন।
নতুন সরকারের শপথ সাধারণত রাষ্ট্রপতি পড়িয়ে থাকেন। তবে এবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শপথ পড়াবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ শেষে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সংসদীয় বৈঠকে নেতা নির্বাচন করা হবে। পরবর্তীতে ওই নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনের দাবি জানালে রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
ফারুক, চট্টলা২৪

