শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬

বিমানবন্দরের বাইরে পৃথক কার্গো ভিলেজ গড়ার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর

বিমানবন্দরে বিদ্যমান কার্গো জট নিরসনে স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ছুটির দিনেও কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট সেবা কার্যক্রম চালু রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কার্যক্রম সীমিত থাকায় জমে থাকা কার্গোর পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উৎসাহিত করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভায় বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং সংকট এবং এর সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “বিমানবন্দর কোনো স্টোরেজ বা গুদামজাতকরণের স্থান নয়; এটি পণ্য আগমন ও বহির্গমনের একটি ট্রানজিট পয়েন্ট। কিন্তু বিভিন্ন কারণে দীর্ঘ সময় ধরে কার্গো বিমানবন্দরে পড়ে থাকায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে।”

তিনি কার্গো ব্যবস্থাপনা আধুনিক করতে বিমানবন্দরের বাইরে নিরাপদ ও আধুনিক সংরক্ষণ সুবিধাসহ একটি পৃথক ‘কার্গো ভিলেজ’ গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। আগামী ১০ বছরের চাহিদা বিবেচনায় পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, হ্যাজার্ডাস, নন-হ্যাজার্ডাস, ফাস্ট-মুভিং ও স্লো-মুভিং পণ্যের জন্য পৃথক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।

সভায় জানানো হয়, বর্তমানে প্রতিদিন যে পরিমাণ কার্গো বিমানবন্দরে আসছে, প্রায় একই পরিমাণ পণ্য খালাসও হচ্ছে। তবে আগে থেকে জমে থাকা কার্গোর চাপ কমানো যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, ছুটির দিনগুলোতে কার্যক্রম সীমিত থাকাও এ সংকটের অন্যতম কারণ।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করছে। স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি—উভয় ধরনের সমাধান নিয়েই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে আবার বৈঠক করে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে আসা একটি উড়োজাহাজ এবং বিমানবন্দরে পণ্য খালাসের অভিজ্ঞতাই বিদেশি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশের প্রথম পরিচয়। তাই এই অভিজ্ঞতা কোনোভাবেই নেতিবাচক হওয়া উচিত নয়।”

সভায় উপস্থিত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, বিমানবন্দরের কার্গো জট শুধু ব্যবসায়ীদের ক্ষতিই করছে না, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আগামী সাত দিনের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানোর আহ্বান জানান।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। তাই দ্রুত কার্গো জট কমিয়ে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে।”

আফরোজা খানম আরও বলেন, আটক ও বাজেয়াপ্ত পণ্যের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং বিকল্প সংরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্গোর চাপ কমানো সম্ভব। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো সমস্যা থাকলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে হবে, হুমকি বা কর্মবিরতির পথে যাওয়া উচিত নয়।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা মত দেন, বিমানবন্দরের কার্গো ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ, দ্রুত পণ্য খালাস এবং আন্তর্জাতিক মানের লজিস্টিক সেবা নিশ্চিত করা গেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, ব্যবসায়ী সংগঠন, কার্গো অপারেটর এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সাব্বির, চট্টলা২৪

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন ২০ হাজার রোগী

বৃহত্তর চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে প্রতিদিন প্রায়...

ভূমিকম্পের কয়েক সেকেন্ড আগেই ভেনেজুয়েলাবাসীকে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল গুগল

ভেনেজুয়েলায় গত বুধবার আঘাত হানা শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী জোড়া...

শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের বৈঠক

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে...

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আইসিসির তিন বিচারকের মামলা, নিষেধাজ্ঞাকে ‘বেআইনি’ দাবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা...