শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬

চসিকে রাজস্ব জালিয়াতি: ২২ লাখের হোল্ডিং ভ্যালুয়েশন ৩ লাখে, নেপথ্যে বিতর্কিত কর্মকর্তা মেশকাতুল!

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) রাজস্ব সার্কেল-৭ এর আওতাধীন দক্ষিণ আগ্রাবাদের একটি হোল্ডিংয়ের কর মূল্যায়ন কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, হোল্ডিংটির মূল্যায়ন ২২ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। এ কম মূল্যায়নের ভিত্তিতে কর আদায় করায় সিটি করপোরেশন প্রতিবছর প্রায় ৩ লাখ ১৮ হাজার ৭৫০ টাকা কম রাজস্ব পাচ্ছে বলে হিসাব পাওয়া গেছে।

হোল্ডিংটি হলো ১০০৮/১১৫৯। এর করদাতা মো. আবুল হোসেন। অভিযোগের সময় চসিকের রাজস্ব সার্কেল-৭ এ কর আদায়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তৎকালীন আওয়ামীপন্থি চসিক শ্রমিক সংস্থার (রেজি. নং বি-৮৩৭) ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আবু মো. মেশকাতুল ইসলাম। নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, মূল্যায়ন কমানোর পর তা কার্যকর রেখে কর আদায়ের প্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা ছিল।

২২ লাখের মূল্যায়ন নেমে ৩ লাখ ২৫ হাজার
চসিকের হিসাব অনুযায়ী, ২২ লাখ টাকা মূল্যায়নের ওপর ১৭ শতাংশ হারে বার্ষিক কর দাঁড়ায় ৩ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। কিন্তু ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যায়ন ধরে ১৭ শতাংশ হারে আদায় করা হচ্ছে ৫৫ হাজার ২৫০ টাকা।
দুই হিসাবের ব্যবধান ৩ লাখ ১৮ হাজার ৭৫০ টাকা। অর্থাৎ অভিযোগটি সঠিক হলে শুধু এই একটি হোল্ডিং থেকেই প্রতিবছর প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার টাকা রাজস্ব কম পাচ্ছে চসিক।

সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কম মূল্যায়নের ভিত্তিতে কর আদায় হয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ সময়ে মোট কত টাকা রাজস্ব কম আদায় হয়েছে, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট সব বছরের কর আদায়ের নথি ও হিসাব পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

রিভিউ বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন
হোল্ডিংটির মূল্যায়ন ২২ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা করার প্রক্রিয়াটি নিয়েই মূল প্রশ্ন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, তৎকালীন মেয়র রেজাউল করিমের নির্দেশনার পর মূল্যায়ন কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে রিভিউ বোর্ড থেকে এ বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়নি; বরং বিষয়টি বাতিল করা হয়েছিল বলে নথি পর্যালোচনায় জানা গেছে।

এরপরও ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যায়নের ভিত্তিতে কর আদায় করা হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, রিভিউ বোর্ডের অনুমোদন না থাকলে কোন প্রক্রিয়ায় ওই মূল্যায়ন কার্যকর রাখা হলো এবং কার নির্দেশে কর আদায় করা হলো।

এই প্রক্রিয়ায় তৎকালীন কর আদায়কারী মেশকাতুল ইসলামের দায়িত্ব ও ভূমিকা কী ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

মেশকাতুলের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ
মেশকাতুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাজস্ব মূল্যায়ন ও কর আদায়সংক্রান্ত আরও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এর মধ্যে একটি পৃথক হোল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে একই মূল্যায়ন একাধিকবার কমানোর অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। নথি অনুযায়ী, প্রথমে ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকার মূল্যায়ন কমিয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা হয়। পরে আবার তা কমিয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়। এরপর ওই দুই পর্যায়ের মূল্যায়নের ভিত্তিতে আলাদা সময়ে কর আদায়ের রসিদ দেওয়া হয় বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

এ ঘটনায় রিভিউ বা আপিল নিষ্পত্তির কিছু নথি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে দ্বিতীয় দফার নিষ্পত্তির কাগজে রিভিউ বোর্ডের চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর না থাকার বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে অনুসন্ধান হয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে এসব ঘটনায় মেশকাতুল ইসলামের ব্যক্তিগত দায় কতটুকু, তা নির্ধারণের জন্য তদন্তের পূর্ণাঙ্গ নথি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
কারণ দর্শানোর পর সতর্ক করার সুপারিশ

রাজস্বসংক্রান্ত অভিযোগের পর মেশকাতুল ইসলামকে ২০২৫ সালে দুই দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট নথি থেকে জানা গেছে।

জবাবে তিনি সাবেক কর কর্মকর্তার নির্দেশনা এবং মেয়রের দাবি বিলের ফটোকপির বিষয় উল্লেখ করে নিজের দায় অস্বীকার করেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন বলে জানা গেছে।

পরবর্তী তদন্তে মূল দায় তৎকালীন কর কর্মকর্তার ওপর দেওয়া হয় এবং মেশকাতুল ইসলামকে সতর্ক করার সুপারিশ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তবে এই প্রক্রিয়ায় দাপ্তরিক অনুমোদনের ধাপ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ফাইলটি প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা, সচিব, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হয়ে মেয়রের অনুমোদনের জন্য যাওয়ার কথা থাকলেও তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সচিব আশরাফুল আমিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

তদন্তের মধ্যে অতিরিক্ত দায়িত্ব, সে দায়িত্বেও বিতর্ক
অভিযোগের তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় প্রশাসনিক জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে মেশকাতুল ইসলাম কীভাবে অতিরিক্ত দায়িত্ব ও পরবর্তীতে পদোন্নতির সুযোগ পেলেন- এ নিয়েও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অভ্যন্তরে ঘুরপাক খাচ্ছে নানা প্রশ্ন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, রাজস্বসংক্রান্ত অভিযোগে তাঁর ভূমিকা নিয়ে যখন প্রশ্ন রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছিল, তখন তাঁকে সিনিয়র কর্মকর্তাদের ডিঙিয়ে উচ্চতর দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

চসিক সচিবালয় বিভাগের ১০ জুন ২০২৬ তারিখের এক দাপ্তরিক আদেশে সার্কেল-৬-এ কর্মরত মেশকাতুল ইসলামকে সার্কেল-১-এর উপ-কর কর্মকর্তা (লাইসেন্স) হিসেবে স্ববেতনে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিযোগের তদন্ত চলাকালীন তাঁকে এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী এবং প্রশাসনিক জ্যেষ্ঠতা ও প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল কি না- তা নিয়েও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

আওয়ামী লীগ-সমর্থিত শ্রমিক সংগঠনের পদে ছিলেন
মেশকাতুল ইসলামের সাংগঠনিক পরিচয় নিয়েও আলোচনা রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তিনি চসিক শ্রমিক সংস্থার (রেজি. নং বি-৮৩৭) ধর্মবিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সংগঠনটিকে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত শ্রমিক সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, আওয়ামী লীগ আমলে সংগঠনটির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা তাঁকে চসিকে প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করতে সহায়তা করেছে। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব খাটিয়েছেন- এমন দাবির পক্ষে সুনির্দিষ্ট নথি বা প্রমাণ থাকলে তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

কর আদায়কারী থেকে উপ-কর কর্মকর্তার দায়িত্ব
মেশকাতুল ইসলামের দায়িত্বের অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, তিনি কর আদায়কারী পদ থেকে উপ-কর কর্মকর্তার দায়িত্বে এসেছেন এবং এ ক্ষেত্রে তাঁর চেয়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ডিঙিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

তবে তাঁর পদায়ন, পদোন্নতি ও অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে চসিকের কোন বিধি অনুসরণ করা হয়েছে, তা জানতে সংশ্লিষ্ট আদেশ ও চাকরির নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

যে প্রশ্নগুলোর উত্তর জানা দারকার
একটি হোল্ডিংয়ের মূল্যায়ন ২২ লাখ টাকা থেকে কীভাবে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকায় নামল- এ প্রশ্নের পাশাপাশি আরও কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। রিভিউ বোর্ড অনুমোদন না দিলে কম মূল্যায়ন কার্যকর হলো কীভাবে? কে সেটি কার্যকর রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন? কম মূল্যায়নের ভিত্তিতে বছরের পর বছর কর আদায়ের অনুমোদন কে দিয়েছেন? তৎকালীন কর আদায়কারী হিসেবে মেশকাতুল ইসলামের দায়িত্ব কী ছিল?

বিষয়টি যাচাই করতে চসিক সার্কেল-৭ এর বর্তমান কর কর্মকর্তা এ.কে.এম সালাউদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করলে তিতি জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অনিয়মটি ধরা পড়ার পর থেকে বর্তমানে ওই হোল্ডিংয়ের কর আদায় সম্পূর্ণ স্থগিত রাখা হয়েছে।

কর কর্মকর্তা সালাউদ্দিন আরও বলেন, “মিশকাতের বিরুদ্ধে আমরা অলরেডি ফাইল পাঠিয়েছি- কেন এই হোল্ডিং থেকে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকার উপর কর নেয়? ও এখানে অজস্র অনিয়ম করেছে। তবে ওপর মহলের নির্দেশের অপেক্ষায় বর্তমানে এই বিতর্কিত হোল্ডিং থেকে কর নেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপকর কর্মকর্তা আবু মো. মেশকাতুল ইসলাম বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, একটি হোল্ডিংয়ের ভ্যালুয়েশন ২২ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত তৎকালীন সিটি মেয়র রেজাউল করিম নিজ হাতে বিলের কপিতে লিখে স্বাক্ষর করেছিলেন। তিনি তখন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ট্যাক্স কালেক্টর হিসেবে শুধু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুসরণ করেছেন।

মেশকাতুল ইসলাম বলেন, তৎকালীন টিও মেজবাউদ্দিন মেয়রের স্বাক্ষরিত ওই কপির ভিত্তিতে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা ভ্যালুয়েশনের ওপর ১৭ শতাংশ ট্যাক্স আদায়ের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি নিয়ম মেনে পে-অর্ডারের মাধ্যমে ট্যাক্স সংগ্রহ করে চসিকের তহবিলে জমা দেন।

আপিল বোর্ডের মাধ্যমে অ্যাসেসমেন্ট চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি ডিটিও ও টিওর এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। সাধারণ ট্যাক্স কালেক্টরদের এতে কোনো ভূমিকা বা হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। তৎকালীন টিও সার্কেল থেকে তাঁকে জানানো হয়েছিল, মেয়রের স্বাক্ষরিত কপিটি আপিল বোর্ডের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়ে যাবে। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই তিনি ট্যাক্সের রশিদ কেটেছিলেন।

সব মিলিয়ে, ২২ লাখ টাকার মূল্যায়ন কীভাবে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকায় নামল, রিভিউ বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া তা কীভাবে কার্যকর হলো এবং বছরের পর বছর কম হারে কর আদায়ের সুযোগ তৈরি হলো- এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। মেশকাতুল ইসলাম ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ পালন করার দাবি করলেও, পুরো প্রক্রিয়ায় কার সিদ্ধান্তে, কার অনুমোদনে এবং কোন পর্যায়ে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে- সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। নথিপত্র যাচাই ও নিরপেক্ষ তদন্তেই এর দায় নির্ধারিত হতে পারে।

ওমর ফারুক, চট্টলা২৪

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

বিএনপি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় ক্লাবে পরিণত করেছে: নাহিদ ইসলাম

বিএনপি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় ক্লাবে পরিণত করেছে বলে অভিযোগ...

নুসরাত হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়: ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল, খালাস ১০

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা...

৯ দিনের মধ্যে ১০ শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করলেন চট্টগ্রাম ডিসি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙার সময় বিষাক্ত গ্যাসে নিহত ১০ শ্রমিকের...

গুম-খুনের শিকার ব্যক্তিদের জন্য নতুন অধিদপ্তর হচ্ছে

গুম, হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি...