বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চট্টগ্রামে চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু, ৮ জনের মৃত্যু

চট্টগ্রামে চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু। লাগামহীনভাবে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। ডেঙ্গু ঝুঁকিতে রয়েছে চট্টগ্রাম নগরের ৬০ শতাংশ এলাকা। জেলায় গত ৮ মাসের রেকর্ড ছাড়িয়ে শুধু চলতি মাসের ২৫ দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ৭০০, আর মারা গেছেন ৮ জন।

চিকিৎসকরা জানান, পরীক্ষায় নেগেটিভ রিপোর্ট আসলেও, পরে অনেকেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রতিরোধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশনকে ১০টি নির্দেশনা দিয়েছে। হাসপাতালগুলোতে চাপ বাড়ায় ওয়ার্ডের বাইরে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রাম মেডিকেলে খোলা হয়েছে আলাদা ডেঙ্গু কর্নার।

সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য বলছে, গত ৮ মাসে চট্টগ্রামে যেখানে আক্রান্ত সাড়ে ৬০০ সেখানে শুধু সেপ্টেম্বর মাসের ২৫ দিনেই আক্রান্ত ৬৭০ জন। গেলো ৮ মাসে চারজন মারা গেলেও চলতি মাসেই প্রাণ যায় আটজনের।

জানা যায়, চট্টগ্রামে ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে অতি ঝুঁকিতে ৭টি, আর কম ঝুঁকিতে ৯টি। ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে আছে ৬০ শতাংশের বেশি এলাকা।

চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রোগীরা বলেন, আমার প্রথমে মাথা ব্যথা ও জ্বর আসে। বুকে কফ জমে, শরীরে ও পেটে ব্যথাও হয়।

রোগীর স্বজনরা জানান, জ্বরে রোগীর পেট ফুলে যায়, কিছুই খেতে পারেন না। তাই রোগীকে চিকিৎসক স্যালাইন, ডাব খাওয়াতে বলেছেন। রোগী মশরির নিচেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. নূর মোহাম্মদ বলেন, চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকলে ভর্তি না হলেও ৯০ শতাংশ ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে যান। তবে যারা গুরুতর থাকেন বা যাদের অতিরিক্ত বমি, পেট ব্যথা, দীর্ঘদিন জ্বর ও রক্তক্ষরণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা নেবেন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আ স ম লুতফুল কবির বলেন, জুন থেকে অক্টোবর ও নভেম্বর পর্যন্ত যেসব রোগী জ্বর নিয়ে হাসপাতালে আসবেন, প্রথমে আমাদের বুঝতে হবে তারা ডেঙ্গু আক্রান্ত কিনা, এরপরই চিকিৎসা। তবে এ সময় থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় বাড়ছে আক্রান্তের হার।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম বলেন, নগরীর নানা নালা নর্দমা ও বাসাবাড়ির সামনে চোখে পড়ছে মশার লার্ভা। আটকে আছে পলিথিন, বোতল ও ডাবের খোসাসহ নানা ময়লা আবর্জনার এলাকাগুলো চিহ্নিত করে ওই এলাকায় কীটনাশক ছিটানো হচ্ছে। এসব এলাকা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এর প্রতিরোধে আগামীতে নেয়া হবে ক্রাশ প্রোগ্রাম বলে জানান তিনি।

তবে কীটতত্ত্ববিদ ও মহামারি-বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে অক্টোবরে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে।

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে বৃদ্ধের ২০ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালির অভিযোগে মনজুর আলম (৬৫) নামে...

সড়ক নিরাপত্তায় হাটহাজারীর স্কুলছাত্রীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা

চট্টগ্রামে সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা হ্রাসে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে...

শিশু নিখোঁজ হলে সবার আগে যা করবেন

৩ সেপ্টেম্বর বিকেলের ঘটনা। আমার বাসার সহকারীর আসল নাম...

চট্টগ্রামে বিয়ে শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনা, নারীসহ নিহত ২

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার...