বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

এরশাদ মাহমুদের ‘সাম্রাজ্য রক্ষায় বিএনপি’!

  • চৌধুরী নূর

ছাত্র জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনীতির মাঠ নিজেদের দখলে যাওয়ার কথা থাকলেও কোনভাবেই বিতর্ক থেকে মুক্ত হতে পারছে না বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এস আলমের গাড়ি–কাণ্ড থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের চাঁদাবাজির ক্ষেত্র দখল; একের পর এক বহিষ্কার আদেশ, কড়া নির্দেশনা আসলেও ‘ভালো হতে পারছে না’ দলটির কিছু নেতাকর্মীরা। এবার আবারও ঘুরে ফিরে একই অভিযোগ, আত্মগোপনে যাওয়া আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের ভাই এরশাদ মাহমুদের অবৈধ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে চেষ্টা চালাচ্ছেন বিএনপি নেতারা। সমালোচনা থেকে বাঁচতে যেখানে মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও থানা পাহারা দিচ্ছেন বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরা, সেখানে তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এরশাদ মাহমুদের অবৈধ বালু মহালের ব্যবসা মোটা টাকার বিনিময়ে সেল্টার দিয়ে পরিচালনায় সহযোগিতা করছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। নানা অপকর্মের সাথে জড়িত থাকার দায়ে বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের আট নেতাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি।

কিন্তু হঠাৎ কি ধরনের অপকর্মে জড়িয়েছেন এসব নেতাকর্মীরা, প্রশ্ন উঠেছে সর্বমহলেই। তাই বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করেছে চট্টলা ২৪। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছাত্র জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে পট পরিবর্তন হলেও চট্টগ্রামে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাসান মাহমুদ ও তার পরিবারের প্রভাবের বলয় বিন্দুমাত্রও ভাঙ্গেনি। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে সোনা চোরাচালান, হুন্ডি সিন্ডিকেট থেকে শুরু করে কর্ণফুলী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন; সব সাম্রাজ্যের অধিপতি ছিলেন ড. হাসান মাহমুদের ভাই এরশাদ মাহমুদ। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে আত্নগোপনে চলে যায় দোর্দণ্ড প্রতাপশালী এই এরশাদ মাহমুদও। কিন্তু তার ব্যবসা-বাণিজ্য চলছে সমানতালেই। তার অবৈধ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হাতিয়ার বানানো হয়েছে বিএনপির একটি পক্ষকে। তাদের দেওয়া হচ্ছে মোটা অংকের টাকার ভাগ। কেন্দ্রীয় বিএনপির সতর্কতাকে তোয়াক্কা না করে রাঙ্গুনিয়ার কিছু বিএনপি নেতা এরশাদ মাহমুদের ব্যবসা পাহারা দিচ্ছেন; এমন অভিযোগ বিএনপির তৃণমূলের। সেই অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটিও। এই কারণেই বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে রাঙ্গুনিয়া যুবদল ও বিএনপির আট নেতাকে।

স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিএনপি নেতার উপস্থিতিতে চন্দ্রঘোনার চারা বটতল এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছিল অবৈধভাবে উত্তোলন করা বালু। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে হাজির হন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ হাসান। এসময় তিনি জব্দ করেন বালু উত্তোলনের সরঞ্জাম। পাশাপাশি জব্দ করেন দুইটি এস্কেভেটর, একটি ট্রাক এবং সিসি ক্যামেরাও। সতর্ক করেন রাঙ্গুনিয়া বিএনপির সদস্য আবুল হাসনাতসহ চার নেতাকে।

বেতাগী ইউনিয়নের সাবেক এক জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘অবৈধভাবে তোলা বালু বিক্রির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। বিএনপি নেতাদের মদদে এসব বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছিল।’

এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার রোয়াজারহাটের রুবেল মার্কেটের একটি গলি ভাঙা নিয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যদের সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দশ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। এমন ঘটনা জানাজানি হবার পর রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক গাজী জসিম উদ্দিন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক কামাল হোসেন, সাত নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসু সওদাগর, পৌর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক গাজী ফরহাদ, বিএনপিকর্মী পারভেজ, সায়েদ, মোহাম্মদ ফয়েজকে প্রাথমিক সদস্যসহ বিএনপির সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিন্তু অপরাধের সাথে জড়িতদের মধ্যে আটজনকে (মামলার আসামি) দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও মামলার আরেক আসামি রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর সালামকে বহিষ্কার করা হয়নি। যুবদল নেতা মামুনও বহিষ্কারের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।

একই মামলা আসামিদের মধ্যে দুইজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়টি নজরে এলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হয় দলটির নেতাকর্মীরা। বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে বিএনপির তৃণমূলের নেতা কর্মীদের মধ্যে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নাম ভাঙ্গিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে জড়ো হন স্থানীয়রা। তাদের উপস্থিতিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাসনাতসহ ঘটনায় জড়িতদের তিরস্কার করেন। তাদের কাছ থেকে মুচলেখাও নেওয়া হয়। কিন্তু বিএনপির পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাঙ্গুনিয়া ও রাউজানের কর্ণফুলী নদী থেকে বালু উত্তোলনের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের ভাই এরশাদ মাহমুদ। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর বিএনপি নেতারাই এরশাদ মাহমুদের তোলা বালু বিক্রি করার বিষয়ে আভ্যন্তরীণ সমঝোতা করেন। এরশাদ মাহমুদ পালিয়ে গেলে তার শ্যালক ফয়সাল মাহমুদের সাথে শান এন্টারপ্রাইজের মালিক সালাউদ্দিনের সাথে বালুর বিক্রির সমঝোতা হয়।

 

`বিএনপি নেতারা আভ্যন্তরীণ সমঝোতা করে অবৈধ বালু মহালে এরশাদ মাহমুদের ব্যবসা পাহারা দিচ্ছেন। দল থেকে এদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’

জানান, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতা।

প্রত্যক্ষদর্শিরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনাস্থলে অভিযান চালানো হলে বিএনপি নেতারা হাতেনাতে ধরা পড়ে। কাতার বিএনপির সহ-সভাপতি ইউসুফ সিকদার, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক ইলিয়াছ শিকদার, আওয়ামী লীগের শীর্ষ সন্ত্রাসী আইয়ুব আলীসহ একটি চক্র বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত থাকায় উপজেলা প্রশাসনের তরফ থেকে বিষয়টি এড়িয়ে যায়।

না প্রকাশ না করার শর্তে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ছাত্রদলের এক শীর্ষ নেতা জানান, ‘কিছু বিএনপি নেতার প্রত্যক্ষ মদদে হাছান মাহমুদের ভাই এরশাদ মাহমুদের ব্যবসায়ীক পার্টনার আওয়ামী লীগের শীর্ষ সন্ত্রাসী আইয়ুব আলী এখনও পুরোনো সাম্রাজ্য টিকিয়ে রেখেছেন। বিএনপি নেতারা আভ্যন্তরীণ সমঝোতা করে অবৈধ বালু মহালে এরশাদ মাহমুদের ব্যবসা পাহারা দিচ্ছেন। দল থেকে এদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’

অভিযোগ রয়েছে, সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসানও ‘আস্কারা’ দিচ্ছেন চক্রটিকে। এই কারণেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির সাথে বিএনপি নেতাদের জড়িত থাকা, ঘটনাস্থলে নেতাদের উপস্থিতি ও মুচলেখা নেওয়ার বিষয়টি কৌশলে চেপে যান রাঙ্গুনিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ হাসান।

এই বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযানের বিষয়টি স্বীকার করলেও বিএনপি নেতাদের মুচলেখা দেওয়ার ব্যাপারে কিছু বলতে রাজি হননি।

বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়া :

আর্থিক সুবিধা নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতার অবৈধ ব্যবসাকে রক্ষায় বিএনপি নেতাকর্মীদের কাজ করার বিষয়টি খুব ইতিবাচকভাবে নিতে পারছে না দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। ভবিষতে এই ধরনের কর্মকাণ্ড করার ক্ষেত্রে প্রত্যেককে দলের সম্মান ও পুরনো দিনেন কথা ভাবার আহ্বান তাদের। পাশাপাশি প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে যৌক্তিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

এর আগে চট্টগ্রাম নগরের কালুরঘাট এলাকায় আলোচিত–সমালোচিত শিল্প গ্রুপ এস আলমের ওয়্যার হাউস থেকে একে একে ১৪টি বিলাসবহুল গাড়ি বের করে দেওয়ার সময় সহযোগিতা করার অভিযোগে তিন নেতার প্রাথমিক সদস্য পদ স্থগিত করেছে বিএনপি। পাশাপাশি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিও। যাদের এই শাস্তির আওতায় আনা হয় তারা হলেন কমিটির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক ও সদস্য মামুন মিয়া। তবে তাঁরা তিনজনেই তা অস্বীকার করে আসছেন। গাড়ি পার করে দেওয়ার কথা অস্বীকার করলেও সেদিন ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন তারা।

এবার রাঙ্গুনিয়ায় এরশাদ মাহমুদের অবৈধ বালুর ব্যবসায় বিএনপি নেতাদের সহযোগিতা করার বিষয়টিও ভালো-ভাবে নিতে পারেনি কেউ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের নেতাকর্মীরা বলেন, তাদের সদস্যপদ আজীবনের জন্য বাতিল করা হোক। এরা দেশ ও দশের শত্রু। যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, এদের মত মানুষ সব সময়ই সুবিধা ভোগ করে থাকেন।

সোনা চোরাচালানে কোটি টাকার মালিক এরশাদ :

সুপ্রাচীনকাল থেকে প্রাচুর্য প্রদর্শনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক লেনদেনেও গুরুত্ব বহন করে চলেছে স্বর্ণ বা সোনা। স্বর্ণকে বলা হয় অর্থের সবচেয়ে স্থায়ী রূপ। সোনার চোখ ধাঁধানো ঔজ্জ্বল্য, অনন্যসাধারণ দীপ্তি, চাকচিক্য ও রঙের তীব্রতা মানুষকে অভিভূত করে চলেছে হাজার হাজার বছর ধরে; আর সে কারণেই এর মূল্য কখনো শূন্যতে নামেনি। তাই অল্প সময়ে কোটিপতি বনতে এই সোনার ব্যবসাকেও হারিয়ার বানিয়েছে এরশাদ মাহমুদ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার এক কর্মকর্তা জানান, শাহ আমানত বিমানবন্দর দিয়ে সোনা চোরাচালনের বড় অংশই নিয়ন্ত্রণ করতেন চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম ও আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের ভাই খালেদ মাহমুদ ও এরশাদ মাহমুদ চট্টগ্রামের স্বর্ণ চোরা চালান ও হুন্ডি ব্যবসার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে তথ্য রয়েছে গোয়েন্দা শাখায়। সোনা চোরাচালানের রুট নিয়ন্ত্রণে এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক জিএস, নগর আওয়ামী লীগ নেতা আরশেদুল আলম বাচ্চু ও পটিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য, হুইপ শামসুল আলমের ছেলে নাজমুল করিম চৌধুরী শারুনকে ব্যবহার করেছেন এরশাদ মাহমুদ।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এরশাদ মাহমুদের এক প্রতিবেশি জানান, সোনা চোরাচালান করেই আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে যান এরশাদ মাহমুদ। গত ১৫ বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ গড়েন তিনি। সরকারি নানা ব্যস্ততায় হাছান মাহমুদ নিয়মিত এলাকায় না আসলেও তার ভাই হিসেবে তিনি অন্যরকম প্রভাব খাটাতেন।

চট্টগ্রামের হুন্ডি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে ইনকাম লক্ষ কোটি টাকার বেশি :

প্রবাসী অধ্যুষিত চট্টগ্রাম জেলায় বিদেশ থেকে আসা রেমিট্যান্সের সিংগভাই পাঠানো হয় অবৈধ লেনদেন হুন্ডির মাধ্যমে। হুন্ডি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে দীর্ঘদিন থেকে চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজার কেন্দ্রিক একটি সিন্ডিকেট। ২০১০ সাল থেকে এই সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ ড. হাছান মাহমুদের ভাই এরশাদ মাহমুদের হাতেই।

হুন্ডি কারবারের সাথে জড়িত একটি সূত্র পুরো বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে এরশাদ মাহমুদের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে জানান, ফটিকছড়ির আবু আহমেদের (সোনা আবু) মাধ্যমে হুন্ডি সিন্ডিকেটে নিয়ন্ত্রণ নেন এরশাদ মাহমুদ। গোয়েন্দা পুলিশের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, আবু আহমেদ গোয়েন্দা জালে ধরা পড়ার পরই মুলত হুন্ডি ব্যবসায় এরশাদ মাহমুদের সম্পৃক্ততা নজরে আসে।

গোয়েন্দা পুলিশের তথ্য মতে, ২৪০ কোটি ৫ লাখ ১২ হাজার ১৬০ টাকা পাচারের অভিযোগে ২০২০ সালের ১৮ মার্চ চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায় মামলা হয় সোনা আবুর বিরুদ্ধে। এই মামলায় ২০ জনকে আসামি করেন অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো. হারুন উর রশীদ। কিন্তু আইনজীবীর মাধ্যমে দুই বছর পর আগাম জামিন চান আবু। সেই আবেদনে ২০২২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি আবুকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।

এ ছাড়া হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আদালতের অনুমতি ছাড়া তার বিদেশযাত্রায়ও নিষেধাজ্ঞা দেন। কিন্তু তিনি অসুস্থতা ও নানা বাহানায় বারবার সময়ের আবেদন করতে থাকেন। পরে একই বছরের ১৩ নভেম্বর চট্টগ্রাম সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আজিজ আহমেদ ভূঁঞার আদালত তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৫ ডিসেম্বর হাইকোর্টে জামিন আবেদন করলে পর দিন ৬ ডিসেম্বর আবুর বিদেশযাত্রায়ও আসে নিষেধাজ্ঞা।

সুত্রমতে, পরোয়ানা থাকলে আবু আহমেদের গ্রেপ্তার ঠেকানোর কাজে তদবির করেন এরশাদ মাহমুদ।

রাঙ্গুনিয়ার একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, এরশাদ মাহমুদের হাত ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ভিক্তিক হুন্ডি ব্যবসায় জড়ান রাঙ্গুনিয়া বিএনপির এক শীর্ষ নেতা। ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পর রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির ওই নেতার শেল্ডার পেয়েছেন এরশাদ মাহমুদ। রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী, চন্দ্রঘোনা, মদুনাঘাট এলাকায় এরশাদ মাহমুদের উত্তেলিত বালু (তুলে বিক্রির জন্য রাখা বালুর মহাল) বিক্রির কাজে সহযোগিতা করে আসছে বিএনপির একটি অংশ।

২১২ একর বনবভূমি দখল :

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ ২০০৮ সালের পর চট্টগ্রামের রাজনীতিতে শীর্ষ প্রভাবশালী হিসেবে আবির্ভূত হন। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে জলবায়ু তহবিলের অর্থ লোপাট করে ২০১৫ সালে গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছিলেন। ইটভাটার পরিবেশ ছাড়পত্র, শীপ বিল্ডিং ও ব্রেকিং শিল্পের ছাড়পত্রের নামে শতকোটি টাকা চাঁদাবাজি করেছেন তিনি।

নির্বাচনী এলাকা রাঙ্গুনিয়ার খুরুশিয়া রেঞ্জে হাছান মাহমুদের ছোট ভাই এরশাদ মাহমুদ বন বিভাগের প্রায় ২১২ একর জমি দখল করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে দখল করা এসব বনভূমিতে তিনি গড়ে তোলেন মহিষের খামার, পুকুর, বাগান, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন স্থাপনা। সরকার পতনের পর কয়েক দফায় অভিযান চালিয়ে বন বিভাগ এসব জমি উদ্ধার করে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, বন বিভাগের বেদখল হওয়া জমি হাছান মাহমুদের পরিবারের কবল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। যদিও এরশাদ মাহমুদ পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে দাবি করেছেন, সরকার থেকে লিজ নিয়েই বনের জমিতে তারা খামার গড়ে তুলেছিলেন।

 

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে বৃদ্ধের ২০ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালির অভিযোগে মনজুর আলম (৬৫) নামে...

সড়ক নিরাপত্তায় হাটহাজারীর স্কুলছাত্রীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা

চট্টগ্রামে সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা হ্রাসে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে...

শিশু নিখোঁজ হলে সবার আগে যা করবেন

৩ সেপ্টেম্বর বিকেলের ঘটনা। আমার বাসার সহকারীর আসল নাম...

চট্টগ্রামে বিয়ে শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনা, নারীসহ নিহত ২

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার...