বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জনে বড় অবদান ফরোয়ার্ড ঋতুপর্ণা চাকমার। ২১ বছরের এক তরুণী যখন দেশের হয়ে একের পর এক সাফল্য এনে দিচ্ছেন, ঠিক তখনই তার মা ভূজোপতি চাকমা জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ক্যানসারে। অর্থের অভাবে থমকে গেছে ফুটবলার ঋতুপর্ণার মায়ের চিকিৎসা। পরিবারের পক্ষ থেকে চাওয়া হয়েছে সরকারি সহায়তা।
পাহাড়ি উজ্জ্বল ঝর্ণা ঋতুপর্ণা চাকমা। বেদনার অতল সাগর বুকে চেপে দেশের তরে ছুটছেন ঋতুপর্ণা। ৭৩ ধাপ এগিয়ে থাকা মিয়ানমারকে পরাজিত করে বাংলাদেশ। যার দৃষ্টি নন্দন দুটি গোলই করেছেন পাহাড়ি কন্যা ঋতুপর্ণা চাকমা। পাহাড়ে গিরিখাত আর দুর্গম পথ পেরিয়ে ঋতুপর্ণার লড়াইয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। মাঠের বাহিরে ঋতুপর্ণার চলছে এক কঠিন লড়াই। দেড় বছর ধরে মা ভুগছেন কঠিন
ক্যানসারে।
পেশাগত আয় দিয়ে মূলত তিনি তার পরিবারের খরচ চালান। তিন বোনের মধ্যে দুইজনের বিয়ে হয়েছে। ২০১৫ সালে লিভার ক্যানসারে মৃত্যু হয় বাবার। একমাত্র ভাই তিন বছর আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন। দেড় বছর ধরে মা ক্যানসারে আক্রান্ত। তার চিকিৎসা চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে গোটা পরিবারকে।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর ঋতুপর্ণাসহ পাহাড়ের নারী ফুটবলারদের নিয়ে রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেলেও বাস্তবায়ন হয়নি কোনো প্রতিশ্রুতি। ঘোষণা দেয়া হয়েছিল নতুন ঘর নির্মাণ, এলাকায় রাস্তা উন্নয়নের। কিন্তু সে প্রতিশ্রুতির বাস্তবচিত্র আজও অনুপস্থিত।
ঋতুপর্ণার বড় বোন পাম্পী চাকমা জানান, ঋতুপর্ণা দেশের জন্য খেলতেছে আমার চাই ও আরও ভালো খেলুক। ও দেশের জন্য অনেক সুনাম বয়ে আনলেও পরিবারের অবস্থা ভালো না। প্রতি মাসে মায়ের চিকিৎসা জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন সেটা জোগাড় করা কঠিন আমাদের জন্য। ও যা খেলে পায় তা দিয়ে মায়ের চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। সরকারের কাছে আমাদের আবেদন মায়ের চিকিৎসা, ঋতুপর্ণার নিরাপদ আবাসন এবং বোনদের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হোক।
ঋতুপর্ণার মা ভূজোপতি চাকমা বলেন, খেলা শেষে প্রতিবার ফোন করে সে, আমরাও বাংলাদেশের খেলা থাকলে সবাই একসঙ্গে দেখি। স্বপ্ন দেখি একদিন আমার মেয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলবে। এলাকাবাসীয় ওর জন্য দোয়া করে। তিনি আরও বলেন, মেয়ের নিয়মিত বেতন হচ্ছে না। ফলে চিকিৎসা করতে কষ্ট হচ্ছে। কষ্টের মধ্যে মেয়ের সাফল্যে খুশি এই জননী।
পরিবারের এই পরিস্থিতিতে ঋতুপর্ণার এমন সাফল্যেও গর্বিত এলাকাবাসী। এলাকাবাসীও চাইলে ঋতুর মায়ের চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তা।
আর রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মো. হাবিব উল্লাহ জানান, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেনেছি। ঋতুপর্ণার জন্য জেলা প্রশাসন সব সময় ছিলো। ওর বাড়ির জন্য জায়গা ও বাড়ি নির্মাণে সহযোগিতা করছে। ওর মায়ের চিকিৎসার জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
চট্টলা২৪/হহ

