প্রতিনিধি | পটিয়া
সকালটা ছিল অন্য সব দিনের মতোই। পটিয়ার এক তরুণ বোরহান উদ্দিন প্রস্তুত হচ্ছিল জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা—এইচএসসির জন্য। স্বপ্ন ছিল চোখে, কলম ছিল হাতে, ভরসা ছিল মেধায়। কিন্তু একটি বিষাক্ত সাপ সবকিছু ওলট-পালট করে দিল মাত্র কয়েক মিনিটে।
পরীক্ষার ঠিক আগমুহূর্তে, কেন্দ্রের ভেতরেই হঠাৎ সাপের কামড়। তীব্র ব্যথা আর অবশ হয়ে আসা শরীর নিয়ে বোরহানকে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। চিকিৎসকরা বলেন, “ভাগ্য ভালো, দ্রুত আনা হয়েছে।” তবে এতেই জীবন থেমে যায়নি—চলছিল সময়, চলছিল পরীক্ষা। আর পরীক্ষা ছিল আইসিটি, বোরহানের প্রিয় বিষয়।
মা জেসমিন আক্তার ছেলের হাত ধরে ছুটে আসেন কলেজে—চোখে কান্না, হাতে ছাড়পত্র। কর্তৃপক্ষকে বোঝান, “সাপ কামড়েছে স্যার, ওর তো কোনো দোষ নেই।” কিন্তু নিয়ম বলল, “১টার মধ্যে না এলে প্রবেশ নিষেধ।”
ঘড়ির কাঁটা তখন ১টা ১৫ মিনিট। মাত্র ১৫ মিনিট দেরিতে আসায় গেট বন্ধ। কোনো সুযোগ, মানবিক ব্যাখ্যা—কিছুই মিললো না। স্বপ্ন কি তবে সময়ের কাছে হার মেনে নিলো?
বোরহান বসে থাকলো কেন্দ্রের সামনে—চোখে পানি, বুকের ভেতরে ভাঙা স্বপ্ন। সাপ কামড়েছিল ঠিকই, কিন্তু তাকে ছোবল দিয়েছে নিয়মের অমানবিকতা।একটা বছর হয়তো কারো কিছু যায় আসে না,
কিন্তু একটা ছেলের জীবন থমকে গেলো।
মায়ের প্রশ্ন, বোরহান কোথায় যাবে? কার কাছে বলবে— “আমার স্বপ্নটা ফেরত দিন?” সে কোনো অপরাধ করেনি, চেয়েছিল বাঁচতে—শুধু তাই। কিন্তু মানবতা তখন কোথায় ছিল?
স্বজনদের দাবি— “বোরহানের জন্য বিকল্প পরীক্ষার ব্যবস্থা করুন। শিক্ষা বোর্ড যেন মানবিক সিদ্ধান্ত নেয়। একটি সাপ যেন একটি স্বপ্নকে গিলে না খায়।”
ওয়াহিদ, চৌধুরী, চট্টলা২৪

