চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর আনন্দপুর এলাকায় গত ৯ জুলাই দুপুর ২টায় প্রবল বর্ষণের ফলে প্রবাহমান নালায় পড়ে মৃত্যু হয় হুমায়ারা মরিয়ম নামের এক শিশু কন্যার। নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা, উন্মুক্ত ও অব্যবস্থাপনার শিকার নালা-নর্দমা ব্যবস্থা এক ভয়াবহ চেহারায় দেখা দেয়, যার বলি হয় এই নিষ্পাপ শিশুটি। এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি চট্টগ্রামবাসীসহ সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের জন্ম দিয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, একটি শিশুর এমন মৃত্যুকে কোনোভাবেই ‘দুর্ঘটনা’ বলে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। এটি সুস্পষ্ট অব্যবস্থাপনার ফল এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। যারা নগর উন্নয়ন, পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছেন (চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থা) তাদের আজকের এই মৃত্যুতে জবাবদিহি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “নগরবাসী আজ প্রশ্ন করছে– একটি আধুনিক শহরের স্বপ্নে আমরা বাঁচছি, নাকি প্রতিনিয়ত মৃত্যুর ফাঁদে পা দিচ্ছি? আমরা উন্নয়নের নামে বড় বড় প্রকল্প দেখি, উদ্বোধন দেখি। কিন্তু সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? আজ মরিয়মের মৃত্যু শুধুই একটি শিশুর প্রাণহানি নয়, এটি নগর ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা ও অমানবিক উদাসীনতার করুণ প্রতিচ্ছবি।”
তিনি সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের প্রতি জোর দাবি জানান, যেন নগর পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে মানুষের জীবন ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
নাজিমুর রহমান বলেন, “এখনই সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষ অডিট কমিটি গঠন করে প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ নালা-নর্দমা ও চলাচলের স্থান পুনঃপরীক্ষা করতে হবে। শুধু প্রকল্পের টাকা খরচ করে উন্নয়ন দেখানোর দিন শেষ– এখন সময় মানুষের জীবন রক্ষায় বাস্তব উদ্যোগের।”
এই সময় তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন থানা বিএনপির নেতা শহীদ মোহাম্মদ চৌধুরী, মোহাম্মদ ইলিয়াস, নগর যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি এম এ গফুর বাবুল, ২৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক আফসারুল ইসলাম, সদস্য সচিব মোহাম্মদ ফারুক, থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কাফি মুন্না, সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ ফিরোজ টিপু, ওয়ার্ড বিএনপির নেতা মোহাম্মদ জহির, মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, মোহাম্মদ আলী, বশির, মোহাম্মদ দিদারসহ আরও অনেক নেতৃবৃন্দ।
চৌধুরী, চট্টলা২৪

