বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পেকুয়ায় নিখোঁজের ১৪ দিন পর অপহৃত শিক্ষকের বস্তাবন্দী লাশ মিলল পুকুরে

| প্রতিনিধি, পেকুয়া (কক্সবাজার)
কক্সবাজারের পেকুয়ায় নিখোঁজের ১৪ দিন পর অপহৃত শিক্ষক মোহাম্মদ আরিফের লাশ তার নিজ বাড়ির পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে তিনটায় শিক্ষকের বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সিরাজুল মোস্তফা চট্টলা২৪-কে বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে শিক্ষকের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। এরপর সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে শিক্ষকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করার প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করার জন্য পুলিশ কাজ করা হয়েছে।

শিক্ষক আরিফের ছোট ভাই রিয়াদ জানান, গত মাসের ২৯ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে তার বড় ভাই পেকুয়া সদরের চৌমুহনীতে অবস্থান করেছিল বলে বিভিন্নজনে তাদেরকে জানান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ। বন্ধ ছিল মুঠোফোনও। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তার সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলাও দায়ের করা হয়। শুক্রবার বিকালে তাদের বাড়ির পরিত্যক্ত পুকুরে বস্তাবন্দী অবস্থায় থেকে তার মেঝ ভাইয়ের লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

জানা যায়, শিক্ষক মোহাম্মদ আরিফের বাড়ি পেকুয়া সদর ইউনিয়নের মাতবরপাড়া এলাকায়। তিনি ওই গ্রামের মরহুম বজল আহমদের ছেলে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর অহরণের পর থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে তার পরিবার থেকে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক মোহাম্মদ আরিফের পরিবারের সাথে পেকুয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের মধ্যে জায়গা জমির বিরোধ চলে আসছিল দীর্ঘ দিন ধরে। সেই জায়গা দখল-বেদখলের জের ধরে শিক্ষক আরিফকে অপহরণ করা হয়। অপহরণ করার পর অনেক খোঁজখবর নিয়েও পাওয়া যায়নি। অবশেষে তার লাশ মিলল নিজ পুকুরে।

এদিকে লাশ উদ্ধারের পরপরই বিক্ষুব্ধ জনতা পেকুয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও তার পিতা রমিজ আহমদের বসতবাড়ি দুইটি দ্বিতল ভবনে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। পরে চৌমুহনীস্থ চেয়ারম্যানের ছোট ভাই উপজেলা যুবলীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মো. আজমগীর ওরফে আজমের মালিকানাধীন মার্কেটের দুইটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাট চালানো হয়েছে।

উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষক আরিফের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তি দাবি জানিয়ে বলেন, আরিফ হত্যাকাণ্ড খুবই মর্মান্তিক। এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করছি। সরকার পতনের পর বিভিন্ন মামলা দিয়ে আমি ও আমার ভাইদের এলাকা ছাড়া করেছে। শুনলাম আজকে আমাদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দিয়েছে, লুটপাট করেছে।

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে বৃদ্ধের ২০ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালির অভিযোগে মনজুর আলম (৬৫) নামে...

সড়ক নিরাপত্তায় হাটহাজারীর স্কুলছাত্রীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা

চট্টগ্রামে সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা হ্রাসে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে...

শিশু নিখোঁজ হলে সবার আগে যা করবেন

৩ সেপ্টেম্বর বিকেলের ঘটনা। আমার বাসার সহকারীর আসল নাম...