বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কিরগিজস্তানে প্রতারণার শিকার ১৮০ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন

গার্মেন্টস ও নির্মাণ খাতে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে প্রতারিত হয়ে কিরগিজস্তানে পাড়ি জমানো ১৮০ জন বাংলাদেশি অবশেষে দেশে ফিরেছেন। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫) ভোর সাড়ে ৩টায় একটি বিশেষ ফ্লাইটে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেক থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারা।

বিদেশে মানবপাচার ও অভিবাসনসংক্রান্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়া এই বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ ও ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম একযোগে কাজ করে। দেশে ফিরে বিমানবন্দরে এসব অভিবাসীদের জরুরি সহায়তা ও অর্থ সহায়তা প্রদান করে ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার প্রোগ্রাম।

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, “বিদেশে বেশি বেতনের লোভ দেখিয়ে এই মানুষগুলোকে কিরগিজস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে গিয়ে অনেকে কাজ পাননি, আবার অনেকেই বিনা বেতনে কাজ করতে বাধ্য হন। অনেকের কোনো বৈধ কাগজপত্র না থাকায় কারাগারেও পাঠানো হয়। এমনকি কেউ কেউ ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হন। কারও কারও পরিবারকে মুক্তিপণ পর্যন্ত দিতে হয়েছে।”

ফিরে আসা অভিবাসীদের মধ্যে লালমনিরহাটের শহীদুল ইসলাম জানান, ওয়েল্ডিংয়ের কাজের আশায় তিনি ২০২৪ সালের ৩ জুন কিরগিজস্তানে যান। কিন্তু পৌঁছানোর পরদিনই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। টানা সাত মাস কাজ করেও কোনো বেতন পাননি। পরে কিরগিজ পুলিশের কাছে নিজেই আত্মসমর্পণ করে তিন মাস জেল খেটে দেশে ফিরে আসেন।

একইভাবে শরীয়তপুরের প্রিন্স মিয়াকে ইউরোপ পাঠানোর কথা বলে প্রথমে দুবাই ও পরে কিরগিজস্তানে নিয়ে যান দালালচক্র। ইতালিতে পাঠানোর মিথ্যা আশ্বাসে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে শেষমেশ মধ্য এশিয়ার এক জেলে ৪৪ দিন আটক থাকতে হয়েছে তাকে।

আরও একজন ভুক্তভোগী, কুষ্টিয়ার মিলন আলী জানান, ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হলেও কোনো সহায়তা পাননি নিয়োগকর্তার কাছ থেকে। টানা চার মাস বেতন না পেয়ে তিনি নিজেই পুলিশের কাছে ধরা দেন এবং তিন মাসের বেশি সময় কারাগারে ছিলেন। মিলন বলেন, “তীব্র রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখার মতো নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে আমাদের ওপর।”

ব্র্যাক জানিয়েছে, ২০১৫ সাল থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশ-ফেরতদের সহায়তায় কাজ করছে তারা। গত আট বছরে ৩৫ হাজারের বেশি প্রবাসীকে বিভিন্ন রকম সহায়তা দেওয়া হয়েছে। শুধু ২০২৪ সালেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৪০ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করে দেশে ফেরানো হয়েছে।

মানবপাচার বিরোধী কাজের স্বীকৃতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের টিআইপি হিরো-২০২৪ পুরস্কারপ্রাপ্ত আল-আমিন নয়ন, মালয়েশিয়া থেকে ফেরত আসা রায়হান কবিরসহ অনেকে ব্র্যাকের এই মানবিক কাজে যুক্ত রয়েছেন।

বিদেশে বিপদে পড়া অভিবাসীরা ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তা পেতে পারেন, জানিয়েছে সংস্থাটি। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সমন্বয়ে তাদের পুনরেকত্রীকরণ ও সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ব্র্যাক।

জুনায়েদ/চট্টলা২৪

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে বৃদ্ধের ২০ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালির অভিযোগে মনজুর আলম (৬৫) নামে...

সড়ক নিরাপত্তায় হাটহাজারীর স্কুলছাত্রীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা

চট্টগ্রামে সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা হ্রাসে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে...

শিশু নিখোঁজ হলে সবার আগে যা করবেন

৩ সেপ্টেম্বর বিকেলের ঘটনা। আমার বাসার সহকারীর আসল নাম...