জাহাজভাঙা শিল্পে শ্রমিকদের অধিকার উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে, আর দুর্ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) পরিচালিত সাম্প্রতিক জরিপে উঠে এসেছে শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্রের অভাব, ন্যূনতম মজুরি কার্যকর না হওয়া, ওভারটাইম ভাতা বঞ্চনা, স্বাস্থ্য-সামাজিক সুরক্ষার অনুপস্থিতি এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিস্থিতির চিত্র।
জরিপে অংশ নেন ৫৮ জন শ্রমিক। এর মধ্যে ৫৩ জনের কোনো নিয়োগপত্র নেই, ২৭ জনের পরিচয়পত্রও নেই। কাটারম্যানদের বড় অংশ মাসে মাত্র ৮–১২ হাজার টাকা আয় করেন, হেলপারদের আয় আরও কম। প্রতিদিন গড়ে ১২ ঘণ্টা কাজ করলেও ওভারটাইম ভাতা পান কেবল ৩৯ জন। সবেতন ছুটি আছে মাত্র ৯ জনের, আর কারও সামাজিক সুরক্ষা বা গ্রুপ বীমা নেই।
শ্রমিকদের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও নাজুক। জরিপে জানা যায়, ৮ জন শ্রমিক কোনো ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী পান না, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয় মাত্র ১১ জনের। মালিকপক্ষের সঙ্গে নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনার সুযোগ আছে বলেছেন মাত্র ১০ জন। প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন ২১ জন শ্রমিক।
বিলস জানায়, গত তিন মাসে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) অন্তত ১৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ জিরি সুবেদার শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৮ জন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন।
শ্রম বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান, ন্যূনতম মজুরি কার্যকর, সামাজিক সুরক্ষা, গ্রুপ বীমা চালু এবং কার্যকর সেফটি কমিটি গঠন ছাড়া শিপ ব্রেকিং শিল্পকে টেকসই উন্নয়নের পথে নেওয়া সম্ভব নয়।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম নগরীর হোটেল আগ্রাবাদে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের আহ্বায়ক তপন দত্ত।
বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আমজাদ হোসাইন চৌধুরী, বিজেএসডির সাধারণ সম্পাদক শেখ নুরুল্লাহ বাহার, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির পরিচালক অধ্যাপক কাজী নাজমুল হুদা, চট্টগ্রাম শ্রম দপ্তরের উপপরিচালক রুমানা আক্তার ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক ওমর ফারুক।
জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাহাজভাঙা শ্রমিক সেফটি কমিটির আহ্বায়ক এডভোকেট জহির উদ্দিন মাহমুদ, জাহাজভাঙা শ্রমিক সেফটি কমিটির সদস্য সচিব মোঃ আলী, জাহাজভাঙা শ্রমিক সেফটি কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব মো. ইদ্রিছ প্রমুখ।
বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ) সভাপতি আমজাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, জাহাজভাঙা শিল্পে বিদেশী গোষ্ঠীর নজর পড়েছে। এ শিল্প নিয়ে দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্রও চলছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই।
চৌধুরী, চট্টলা২৪

