রাজধানীতে আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) চব্বিশের জুলাই গণহত্যা–সম্পর্কিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে ঘিরে এই বহুল আলোচিত রায় নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে ট্রাইব্যুনাল–সংলগ্ন এলাকা জুড়ে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সদস্যরা সকাল থেকেই টহল জোরদার করেছে।
ট্রাইব্যুনালের ভেতরে–বাইরে কঠোর পাহারার পাশাপাশি আশপাশের এলাকা নিরাপত্তা বলয়ে আবদ্ধ রাখা হয়েছে। মাজার গেট এলাকা ও সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন পয়েন্টে সেনাসদস্যদের অবস্থান করা দেখা গেছে। রায়টিকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বড় পর্দায় সরাসরি সম্প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষও বিচার প্রত্যক্ষ করতে পারেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তা লাইভ প্রচার করা হবে।
১৩ নভেম্বর রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল। মামলায় ৫৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন, যেখানে পাঁচটি অভিযোগ—উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখারপুলে হত্যা এবং আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর ঘটনা—তোলা হয়। এ মামলায় চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ও প্রসিকিউশনের আইনজীবীরা। সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয় ৮ অক্টোবর।
সাবেক আইজিপি মামুন রাজসাক্ষী হওয়ায় তার সাজা নিয়ে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। বহুল প্রত্যাশিত এই রায়ে দেশে–বিদেশে দৃষ্টি এখন ট্রাইব্যুনালের দিকে।

