বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিজ বিবাহবার্ষিকীর দিনেই মৃত্যুদণ্ডের রায় পেল শেখ হাসিনা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণা করেন।

দুঃসংবাদের দিনটি শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত জীবনের বিশেষ একটি দিন। এদিন তার ৫৮তম বিবাহবার্ষিকী। ১৯৬৭ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কারাবন্দিত্বের সময় মা ফজিলাতুন নেছার তত্ত্বাবধানে বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় শেখ হাসিনার। তাদের সংসারে রয়েছে দুই সন্তান—সজীব ওয়াজেদ জয় (জন্ম ২৭ জুলাই ১৯৭১) ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল (জন্ম ৯ ডিসেম্বর ১৯৭২)।

শেখ হাসিনা মোট পাঁচবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন—১৯৯৬–২০০১, ২০০৯–২০১৪, ২০১৪–২০১৯, ২০১৯–২০২৪ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে। তবে কোটা সংস্কার আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেওয়ার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র চাপের মুখে তাকে দেশ ছাড়তে হয়।

জুলাই–আগস্টের সেই আন্দোলনে পুলিশের গুলি, হামলা এবং আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সহিংসতায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার পর সরকারের পতন হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়।

পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম মামলা হিসেবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়। প্রথমে তিনি একমাত্র আসামি থাকলেও পরে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে আসামি যুক্ত করা হয়। মামুন গ্রেপ্তার হওয়ার পর ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী) হওয়ার আবেদন করেন এবং ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে।

প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগে পাঁচটি অভিযোগ আনে, যার মধ্যে রয়েছে: ১৪ জুলাই গণভবনে উসকানিমূলক বক্তব্য, হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলন দমন নির্দেশ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা, রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যা, আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা।

৪৫৩ পৃষ্ঠার ছয় অধ্যায়ের রায়ের প্রথম অংশ দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে পড়া শুরু করেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে রায় পড়ার পর ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে। রাজসাক্ষী হওয়ায় আইজিপি মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

প্রতিরক্ষা পক্ষ রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর মাধ্যমে খালাস আবেদন করলেও ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের দাবির পক্ষে রায় দেয়।

ফারুক, চট্টলা২৪

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে বৃদ্ধের ২০ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালির অভিযোগে মনজুর আলম (৬৫) নামে...

সড়ক নিরাপত্তায় হাটহাজারীর স্কুলছাত্রীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা

চট্টগ্রামে সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা হ্রাসে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে...

শিশু নিখোঁজ হলে সবার আগে যা করবেন

৩ সেপ্টেম্বর বিকেলের ঘটনা। আমার বাসার সহকারীর আসল নাম...