বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ট্রাইব্যুনাল-২ এ বাক্যবিনিময়ে উত্তেজনা, বিচারকদের হস্তক্ষেপ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার আশুলিয়ায় ছয়জনকে গুলি করে ও পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় জেরার সময় প্রসিকিউশন ও ডিফেন্সের আইনজীবীদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এর এজলাস উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। আজ বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো এ ঘটনা ঘটে।

এদিন মামলার রাজসাক্ষী ও পুলিশের সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হককে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুর রহমান। জেরায় আবজালুল জানান, তিনি গত বছরের ৫ আগস্ট অনুমতি ছাড়াই আশুলিয়া থানা ত্যাগ করেন এবং ১৫ আগস্ট থানায় ফেরত আসেন। গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি আশুলিয়া থানায় কর্মরত ছিলেন। পরে তাঁকে এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।

জেরায় ডিফেন্স আইনজীবী প্রশ্ন করেন, থানায় ফিরে এসে তিনি সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রাজু আহমেদের নিহত হওয়ার কথা শুনেছিলেন কি না। এই প্রশ্নের বিরোধিতা করেন প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম। তাঁর বক্তব্য, রাজসাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে, তবে এ ধরনের প্রশ্ন করা যাবে না।

ডিফেন্স আইনজীবী মিজানুর রহমান পাল্টা বলেন,
“একজন দারোগাকে মেরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, ওই প্রশ্ন করা যাবে না? এ রকম বিচার করতে কোর্ট এখানে আসেন নাই।”
তিনি এসময় নিহত এএসআই রাজুর স্ত্রীর করা মামলার নথিও তুলে ধরেন।

এর পরপরই এজলাসে দুটি পক্ষের মধ্যে তর্ক—ডকুমেন্ট দেখানোর অনুমতি, সাফাই সাক্ষীর তালিকা জমা এবং হুমকি-ধমকির অভিযোগ নিয়ে একাধিক বাক্যবিনিময় হয়। এসময় মিজানুর রহমান বলেন,
“আরেকটা সুখরঞ্জন বালি তৈরি করতে চান? সাফাই সাক্ষীর নাম দিলেই থ্রেট শুরু হয়ে যায়।”

প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ডিফেন্সের আচরণ নিয়ে মন্তব্য করেন,
“তাঁদের কোর্টে আসাই উচিত হয়নি।”

পাল্টা উত্তেজিত হয়ে মিজানুর রহমান বলেন,
“গায়ের জোরের কাছে পেরে উঠি না।”
এসময় প্রসিকিউটর উচ্চ স্বরে বারবার বলেন, “হোয়াট ইজ দিস!”

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় বিচারকেরা দুই পক্ষকেই এজলাসের পরিবেশ বজায় রাখার নির্দেশ দেন। ট্রাইব্যুনাল মন্তব্য করে,
“সাক্ষ্য নিতে গেলেই এত কাহিনি!”
পরে বলেন, “আইনকে আইনের মতো করে প্রয়োগ করলে কাজ হয়।”

ডিফেন্সের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজসাক্ষী আবজালুল নিহত এএসআই রাজুর স্ত্রীর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন—তাই এ বিষয়ে তাঁর কাছে তথ্য থাকা স্বাভাবিক। তবে প্রসিকিউশন যুক্তি দেয়, ওই বিষয়টি বর্তমান ছয় হত্যা মামলার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়।

আশুলিয়ায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আসামি ১৬ জন। এর মধ্যে সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ আটজন পলাতক। গ্রেপ্তার বাকিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী ও মো. শহিদুল ইসলাম, ডিবির সাবেক পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই আবদুল মালেক, আরাফাত উদ্দীন, কামরুল হাসান, শেখ আবজালুল হক ও সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী অনুপস্থিত থাকায় আজ ট্রাইব্যুনাল-২–এর কার্যক্রম পরিচালনা করেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

ফারুক, চট্টলা২৪

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে বৃদ্ধের ২০ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালির অভিযোগে মনজুর আলম (৬৫) নামে...

১৫ সেপ্টেম্বরের পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে: প্রতিমন্ত্রী

আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য...

এ দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়, সবাই বাংলাদেশি’: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এ দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী...