বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প-মামদানি বৈঠকে প্রশংসা ও সৌহার্দ্যের বার্তা

ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে দুই নেতার এই সাক্ষাৎকে ঘিরে শুরু থেকেই ছিল ব্যাপক আগ্রহ। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করেছিলেন—পুরোনো বিরোধ কি ভুলে তারা নতুনভাবে সহযোগিতার পথে হাঁটবেন, নাকি তিক্ততার ছায়া থেকেই যাবে।

বৈঠক শেষে যে চিত্র সামনে এসেছে, তা আশাব্যঞ্জক। দুই নেতার মধ্যে দেখা গেছে সৌহার্দ্য, হাস্যোজ্জ্বল মুখাবয়ব ও পারস্পরিক প্রশংসা। নিউইয়র্ক শহরের অপরাধ দমন ও ব্যয় সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তারা। খবর রয়টার্স।

বৈঠকের শুরুতেই একে অন্যকে হাসিমুখে শুভেচ্ছা জানান ট্রাম্প ও মামদানি। পুরো আলোচনাজুড়ে ট্রাম্প ছিলেন অনুকূল ও মনোযোগী, আর মামদানি ছিলেন আত্মবিশ্বাসী ও সংযত। ট্রাম্পকে কয়েক দফা মামদানির প্রতি উৎসাহসূচক আচরণ করতে দেখা যায়; কখনো আলতো করে হাত চাপড়ে দেওয়া, আবার কখনো রসিকতার ছলে বাহুতে হালকা ঘুষিও মারেন। অভিজ্ঞ রাজনীতিকের তরুণ নেতাকে স্নেহ জানানোর এই দৃশ্য দ্রুতই আলোচনায় আসে।

ওভাল অফিসে বৈঠকের সময় ট্রাম্প তাঁর ডেস্কে বসে ছিলেন, আর মামদানি দাঁড়িয়ে দুহাতে হাত জোড়া করে কথা বলেন। রিপাবলিকান ট্রাম্পের লাল টাই ও ডেমোক্র্যাট মামদানির নীল টাই—দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রতীক হলেও আলোচনায় ছিল সহযোগিতার বার্তা।

বামঘেঁষা ডেমোক্র্যাট জোহরান মামদানি অল্প বয়সেই নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচিত হয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। তিনি সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোকে হারিয়ে শহরের নেতৃত্বে আসীন হন। অভিবাসী পরিবারের সন্তান হয়েও জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসা তাঁকে বিশেষভাবে আলোচনায় এনেছে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমি যা ভেবেছিলাম তার চেয়েও বেশি বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। একটি বিষয়ে আমরা দুজনেই একমত—আমরা চাই নিউইয়র্ক শহর ভালো থাকুক।” তিনি আরও জানান, মামদানি ভালো কাজ করলে তিনি খুশি হবেন।

মামদানিও জানান, নিউইয়র্কের স্বার্থে তিনি ফেডারেল প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমতের দুই নেতার মধ্যে এমন উষ্ণ ও ইতিবাচক সাক্ষাৎ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটিকে নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার সূচনা না বলা হলেও—ট্রাম্প ও মামদানি অতীতের দূরত্ব ভুলে সামনে এগোতে আগ্রহী, তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে বৈঠকে।

ফারুক, চট্টলা২৪

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে বৃদ্ধের ২০ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালির অভিযোগে মনজুর আলম (৬৫) নামে...

সড়ক নিরাপত্তায় হাটহাজারীর স্কুলছাত্রীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা

চট্টগ্রামে সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা হ্রাসে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে...

শিশু নিখোঁজ হলে সবার আগে যা করবেন

৩ সেপ্টেম্বর বিকেলের ঘটনা। আমার বাসার সহকারীর আসল নাম...