বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চট্টগ্রামে মানবিক প্রশাসনের ডাক দিলেন ডিসি জাহিদুল ইসলাম

চট্টগ্রামে গ্রাম আদালত কার্যক্রম পর্যালোচনা সভায় ডিসির কঠোর বার্তা
চট্টগ্রামের নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ ও প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “পারফরম্যান্স নির্ধারিত হয় মানুষের প্রত্যাশা দ্বারা”: অর্থাৎ নাগরিকের চাহিদা পূরণই হবে প্রকৃত কর্মদক্ষতার মানদণ্ড।

শনিবার চট্টগ্রাম টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের অর্ধ-বার্ষিক অগ্রগতি পর্যালোচনা ও করণীয় বিষয়ক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা জানান জেলা প্রশাসক।
সভাটি আয়োজন করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ সরকার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএনডিপির সহায়তায় পরিচালিত ‘বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্প’।

সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. শরীফ উদ্দীন।

‘দায়িত্বে গাফিলতি অগ্রহণযোগ্য’: ডিসি

গ্রাম আদালতের মামলার নিষ্পত্তি সংক্রান্ত পরিসংখ্যান উপস্থাপনের পর ডিসি বলেন,
“আমি শুধু সংখ্যায় পারফরম্যান্স বিচার করি না। নাগরিকের সমস্যা কতটা সমাধান করতে পারলেন, তার ভিত্তিতেই আপনাদের দক্ষতা মূল্যায়িত হবে। সরকারি দায়িত্বে গাফিলতি অগ্রহণযোগ্য—এই কারণে মানুষের আস্থা কমেছে।”

তিনি আরও বলেন,
“কেউ সেবা নিতে এলে সমস্যা সমাধান করতে পারবেন কি পারবেন না—তা পরে দেখা যাবে; কিন্তু ভালো আচরণ করতেই হবে। ব্যস্ততা থাকলেও মানুষের কথা শুনতে হবে।”

ডিসি মনে করিয়ে দেন,
“সরকার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দায়িত্ব দিয়েছে। সেই সময়ে সেবা দিতে না পারলে দায়িত্বই পালন হলো না।”

চেয়ারম্যানদের অনুপস্থিতি উদ্বেগজনক

চট্টগ্রামের প্রায় ৮০ শতাংশ ইউনিয়নে বর্তমানে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন,
“অধিকাংশ চেয়ারম্যান ৫ আগস্টের পর এলাকা ছাড়ছেন—কেন এমন হলো, সেটিও ভাবার বিষয়।”

তিনি কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আগামী নির্বাচনে “সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জাতিকে উপহার দেওয়ার” প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

অন্যদের বক্তব্য

ইপসার সহকারী পরিচালক ফারহানা ইদ্রিস স্বাগত বক্তব্য দেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক ফরিদুল আলম।

সভাপতির বক্তব্যে মো. শরীফ উদ্দীন বলেন,
“ইউনিয়ন পরিষদ মাঠ পর্যায়ে সরকারের নীতিমালা বাস্তবায়নের প্রধান প্রতিষ্ঠান। জনগণের জন্য সেবা পরিবেশ উন্নত করা জরুরি। ছোটখাটো অপরাধ ও বিরোধ নিষ্পত্তিতে চেয়ারম্যানদের আইনগত ক্ষমতা যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে হবে।”

অগ্রগতি প্রতিবেদন ও মুক্ত আলোচনা

জানুয়ারি–অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত চট্টগ্রামের ১৯১টি ইউনিয়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন প্রকল্পের জেলা ম্যানেজার সাজেদুল আনোয়ার ভূঁঞা। পরে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন কর্ণফুলীর ইউএনও সজীব কান্তি রুদ্র, সীতাকুণ্ডের ইউএনও মো. ফখরুল ইসলাম, ছদাহা ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নুরুল আবছার, লেলাং ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা খায়রুল আসলাম প্রমুখ।

১৫টি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, ১৯১টি ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে বৃদ্ধের ২০ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালির অভিযোগে মনজুর আলম (৬৫) নামে...

সড়ক নিরাপত্তায় হাটহাজারীর স্কুলছাত্রীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা

চট্টগ্রামে সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা হ্রাসে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে...

শিশু নিখোঁজ হলে সবার আগে যা করবেন

৩ সেপ্টেম্বর বিকেলের ঘটনা। আমার বাসার সহকারীর আসল নাম...

চট্টগ্রামে বিয়ে শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনা, নারীসহ নিহত ২

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার...