চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ চ্যানেলে ফেরি চলাচল শুরুর পর ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সড়ক পরিবহন, বিদ্যুৎ ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের নির্দেশে ৩৪ জেলে পরিবারকে সরকারি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
শনিবার সন্দ্বীপ উপজেলা কমপ্লেক্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিটি পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা ও ৪০ কেজি চাল দেওয়া হয়। মোট ৩৪ পরিবারে প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ১ দশমিক ৩৬ টন চাল বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নবনিযুক্ত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। উপস্থিত ছিলেন সন্দ্বীপের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমা এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, “জ্ঞান–বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জেলেদের মাছ ধরার পদ্ধতি আধুনিকায়ন জরুরি। একই সঙ্গে ছেলে–মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে হবে, তবেই পরিবার ও সমাজের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের একাডেমিক ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা জেলে পরিবারের সন্তানদের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, ফেরি চলাচলের কারণে জেলেদের জীবিকায় বাধা সৃষ্টি হওয়ায় উপদেষ্টা তাকে সরাসরি ফোন করে সমস্যা জানানোর পরই তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেন। তিনি বলেন, “২৪ তারিখে বিষয়টি জানার পরই আমরা আইনের মধ্যেই সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করি। ২৫ তারিখেই জিও অর্ডার জারি করে সহায়তা বরাদ্দ দিই।”
তিনি আরও আশ্বাস দেন, ভবিষ্যতে জেলে ও স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকার সব ধরনের মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।
সহায়তা পেয়ে জেলেরা স্বস্তি প্রকাশ করেন। হারামিয়া ইউনিয়নের রতি দাস বলেন, “ডিসি স্যার আমাদের কথা সরাসরি শুনেছেন। সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে বলেছেন। তাঁর আশ্বাসে আমরা ভরসা পেয়েছি।”
উল্লেখ্য, সন্দ্বীপ–বাঁশবাড়িয়া নৌ–রুটে গত ২৪ মার্চ ফেরি সার্ভিস চালু হওয়ার পর নিরাপত্তার স্বার্থে চ্যানেলে সাময়িকভাবে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয় এবং স্থায়ী জাল অপসারণ করা হয়। এতে সনাতন ধর্মাবলম্বী জেলে সম্প্রদায়ের বহু পরিবার জীবিকা হারিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল।
অবশেষে মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শনিবার ৩৪ পরিবারকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়। জেলেরা জানান—এই সহায়তা তাদের পরিবারকে তাৎক্ষণিক সংকট থেকে উদ্ধার করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে—ফেরি চলাচল ও জীবিকা—উভয় দিক বিবেচনায় ভবিষ্যতেও জেলে পরিবারসহ স্থানীয় জনগণের পাশে থাকবে প্রশাসন।
ফারুক, চট্টলা২৪

