চট্টগ্রামের রাস্তায় লোকাল বাসে উঠলেই মনে হয়, শহরটা যেন আলাদা ছন্দে দুলে ওঠে। বাসের মুখ খুলতেই হেল্পারের হাঁকডাক: “হদমতলী… দেওয়ান আট… টাইগার বাস… আইয়্যু আইয়্যু…!” এই ডাকেই যেন দিনের শুরু।
মাত্র উঠে দাঁড়াতেই যাত্রীদের এক কণ্ঠ, “অডা টান সোনা! মানুষ হম ওইয়ি না?” দ্বিতীয় যাত্রী আবার ড্রাইভারের উপরই ক্ষোভ ঝাড়েন, “এন ছেস্রা ড্রাইভার জিবনত ন দেহি!” আরেক যাত্রী সিটের সন্ধানে হাঁফাতে হাঁফাতে বলেন “দেখি ভাই, একটু জায়গা দেন তো!”
হেল্পারের চিরচেনা ঘোষণা- “গোডা গাড়ি হালি, আইয়ু আইয়ু, মাইফোয়ার সিট আসে!”
এদিকে মুরব্বির বিরক্তি আকাশচুম্বী: “আরাদিন এক জাগাত ফরি তাইলি কেনে অইবু?”
হেল্পারের জবাব সোজাসাপ্টা “অনে এক্কানা উড়ে ওডন তো!, এক্কানা গরি ডাইন মিক্কা ওই থিয়ন”
বাসের সামান্য ঢেউ লাগলেই আরেক যাত্রীর ক্ষেপা ঝাড়ি
“উরে হডে উটতাম? ছাদত না তোর মাথাত? আলার ফোয়া আলা!”
শুদ্ধ ভাষায় কথা বলা যাত্রীও হার মানেন না
“ভাই, ধাক্কা দিচ্ছেন কেন?”
জবাব আসে তীরের মতো, “ফেছেনজার উটতেছে দেখতেছেন্না?”
রাস্তায় জ্যাম পড়তেই পুরো বাসে হইচই…
হেল্পার চেঁচিয়ে বলে, “ফিসে গোডা হালি! ফত এক্কান জ্যাম কা গরি রাইক্কোন!”
মুরব্বি আবার বকেন, “এডে নিষ্যেশ ফালাইবার জাগা নাই, ইতে কেনে ঘুরি তিয়েইতাম!”
এর মধ্যেই রিংটোন- “হেলো তিয়া তিয়া, ১০ মিনিটুর ভুতুর আইর!” শুনে পুরো বাসেই হাসির রোল।
একসময় শুরু হয় ভাড়া তোলার নাটক।
হেল্পার: “চাই ভারা দ!”
যাত্রী: “চাই ওগগো টিয়া দ… ভাংতি নাই!”
হেল্পার বিরক্ত, যাত্রীরা তার চেয়েও বেশিক্ত।
সবশেষে ‘ওস্তাদের’ সেই কিংবদন্তি ব্রেক-
ব্রেকককককককক!
মহিলা যাত্রীর চিল্লানি, “হতবার খুজিবি! ১০০বার ভাড়া দিছি!”
হেল্পারের অসহায় নিঃশ্বাস, “শরে লামন…!”
এভাবেই চট্টগ্রামের লোকাল বাস যেন প্রতিটি দিনেই বানায় নতুন গল্প, নতুন কাণ্ড। রাস্তায় ধুলো উড়লেও, এই শহরের ভাষা, মানুষের রসিকতা আর যাত্রার হট্টগোল- সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের বাসযাত্রা কখনোই বিরক্তিকর হয় না; বরং প্রতিটি ট্রিপই একেকটা চান্স-ফান-ড্রামা!
ফারুক, চট্টলা২৪

