কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীবন্দরের সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। রোববার দুপুরে কস্তুরাঘাট এলাকায় বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা সীমানা নির্ধারণে পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা সড়ক অবরোধ করেন। গাছ ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে তারা যানচলাচল বন্ধ করে দেন। পরে কয়েক শ নারী-পুরুষ একই স্থানে মানববন্ধন করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় পুলিশ, র্যাব ও আনসারের উপস্থিতি বাড়লেও শেষ পর্যন্ত বিআইডব্লিউটিএ কাজ বন্ধ রেখে এলাকা ত্যাগ করে।
বিআইডব্লিউটিএ ও জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গত সেপ্টেম্বর মাসে বাঁকখালী নদীর ওই অংশে উচ্ছেদ অভিযানে ৪৯৬টি অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে প্রায় ৬৩ একর জমি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত জমি ফের দখলের ঝুঁকি থাকায় সীমানা পিলার ও কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ: উচ্ছেদ হওয়া স্থানের মধ্যে ব্যক্তিমালিকানাধীন খতিয়ানভুক্ত জমিও রয়েছে, ক্ষতিপূরণ ছাড়া সেখানে কাঁটাতার বসানো অন্যায়।
এ সময় পারুল আক্তার নামে এক নারী বলেন, ‘আমাদের খতিয়ান আছে, খাজনাও দিচ্ছি। আলোচনার বাইরে গিয়ে ঘর ভাঙা বা কাঁটাতার দেওয়া চলবে না।’ আরেক নারী সাবিনা ইয়াছমিনের অভিযোগ, অনেক পাকা ভবন নির্মাণের সময় কেউ বাধা দেননি, এখন হঠাৎ উচ্ছেদ করায় বহু পরিবার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
মানববন্ধনে বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতারাও অংশ নেন। কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর নাসিমা আকতার বলেন, বাঁকখালী নদীর দখল নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলা রয়েছে, উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রাখতেও হাইকোর্টে তিনটি মামলা আছে। আলোচনা ছাড়া কাঁটাতার বসানো হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
তবে বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কক্সবাজার নদীবন্দরের পোর্ট অফিসার মো. আবদুল ওয়াকিল বলেন, ‘অবরোধকারীদের বড় অংশ ভাসমান লোকজন, তাঁদের জমির বৈধ কাগজ নেই। কিছু দখলদার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের ব্যবহার করছেন।’ তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া জমি রক্ষায় পিলার বসানো জরুরি, না হলে ফের দখলের শঙ্কা রয়েছে।
এ নিয়ে এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ফারুক, চট্টলা২৪

