বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দশ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিলেন এক নারী

চট্টগ্রামের এক নারী দীর্ঘ ১০ বছর নিঃসন্তান থাকার পর একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের মা হয়েছেন। জন্ম নেওয়া সন্তানদের মধ্যে দুই ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মা ও নবজাতকরা সুস্থ আছেন। তবে নিরাপত্তার কারণে নবজাতকদের পার্কভিউ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) রাখা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে চট্টগ্রামের পিপলস হাসপাতালে। প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফরিদা ইয়াসমিন সুমি জানিয়েছেন, জন্মপ্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল মা এবং নবজাতকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে।

পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, এনি আক্তার (৩০) বিয়ের দশ বছর পার হলেও সন্তান হচ্ছিল না। পরে তাঁরা ডা. ফরিদা ইয়াসমিন সুমির পরামর্শে ইন্ট্রা-ইউটেরাইন ইনসেমিনেশন (আইইউআই) পদ্ধতি গ্রহণ করেন। প্রথম মাসেই এ পদ্ধতিতে সফলতা আসে এবং দম্পতি সন্তানসুখের আশায় উল্লসিত হন।

ডা. সুমি জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পাঁচ শিশুর জন্ম হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের ওজন যথাক্রমে ১ হাজার ৬০০ গ্রাম, ১ হাজার ৫০০ গ্রাম ও ১ হাজার ৪০০ গ্রাম। বাকি দুজনের ওজন ১ কেজি। সকল নবজাতক সুস্থ ও স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।

হাসপাতালের কর্মকর্তা মানিক জানিয়েছেন, বিকেলের দিকে এনি আক্তার প্রসূতি ব্যথা নিয়ে ভর্তি হন। ডা. সুমির তত্ত্বাবধানে পাঁচ সন্তানের জন্ম সম্পন্ন হয়। সকল নবজাতকের ওজন স্বাভাবিক এবং তাদের স্বাস্থ্য ঠিক আছে।

নবজাতকরা বর্তমানে এনআইসিইউতে রাখা হয়েছে যাতে তারা পর্যাপ্ত যত্ন ও নজরদারির মধ্যে থাকে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রথম কয়েক সপ্তাহের পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে বিশেষ যত্ন নেওয়া হচ্ছে যাতে সব শিশু স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়।

পরিবারের সদস্যরা সন্তানদের জন্মে আনন্দিত। তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘ ১০ বছরের অপেক্ষার পর একসঙ্গে পাঁচ সন্তান জন্মের ঘটনা তাদের জন্য এক নতুন আনন্দের সূচনা। পরিবার নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রস্তুত।

ডা. সুমি বলেন, একাধিক সন্তানের জন্মের ক্ষেত্রে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সতর্কতা খুবই জরুরি। তাই হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা সব সময় তাদের তত্ত্বাবধানে রেখেছেন। ভবিষ্যতে তারা স্বাভাবিকভাবে বাড়ি ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এই ঘটনা চট্টগ্রামের চিকিৎসা জগতে বিরল একটি ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মা ও শিশুদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। এটি নিঃসন্তান দম্পতিদের জন্য আশা ও আনন্দের এক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ফারুক, চট্টলা২৪

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে বৃদ্ধের ২০ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালির অভিযোগে মনজুর আলম (৬৫) নামে...

সড়ক নিরাপত্তায় হাটহাজারীর স্কুলছাত্রীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা

চট্টগ্রামে সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা হ্রাসে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে...

শিশু নিখোঁজ হলে সবার আগে যা করবেন

৩ সেপ্টেম্বর বিকেলের ঘটনা। আমার বাসার সহকারীর আসল নাম...

চট্টগ্রামে বিয়ে শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনা, নারীসহ নিহত ২

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার...