চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সানশাইন গ্রামার স্কুলের ভূমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন স্কুলের ভূমি মালিক হাবিব উল্লাহ ইদ্রিচ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আওয়ামী ওলামালীগ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি এস এম খোরশেদ উল্লাহ রজায়ীর পৃষ্ঠপোষকতায় এবং এক বিএনপি নেতার প্রত্যক্ষ প্রভাবে মোহাম্মদ মুসলিম রুবেল ও আরাফাত মহামান্য হাইকোর্টের লিভ টু আপীল (নং ৪৪০৫/২৫) বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও সানশাইন গ্রামার স্কুলের ভূমি জোরপূর্বক দখল করে নেন। দখলকৃত ভূমির বিবরণ- জেলা: চট্টগ্রাম, থানা: পাঁচলাইশ, মৌজা: পূর্ব নাসিরাবাদ, বি.এস খতিয়ান নং-২৮২ ও ৭২৪৪, বি.এস দাগ নং-১৫৫২ থেকে ০.১৩২৪ একর।
তিনি অভিযোগ করেন, ভূমি দখলের পাশাপাশি তার বৃদ্ধা মা ও স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে স্কুল ছেড়ে দিতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। স্কুল অফিসে অনাধিকার প্রবেশ করে দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত কক্ষ অবরুদ্ধ করা, একাধিকবার পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, পরিবারের সদস্য ও আগত অতিথিদের চলাফেরায় বাধা ও হেনস্তা, নারী সদস্যদের প্রতি আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি, এমনকি স্ট্রোকে আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত নার্স ও চিকিৎসকদের গৃহে প্রবেশে বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি। এ ছাড়া সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুরসহ নানামুখী হুমকি অব্যাহত রয়েছে বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ভুক্তভোগী পরিবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি পাঁচলাইশ থানার ওসি সোলাইমানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশ কমিশনারের নির্দেশ অমান্য করে ওসি সোলাইমান ভূমি মালিকের পক্ষে কোনো ব্যবস্থা নেননি; বরং অভিযুক্তদের পক্ষাবলম্বন করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি সোলাইমান বলেন, “এটি বায়বীয় অভিযোগ। বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে তদন্ত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
সংবাদ সম্মেলনে ভূমি দখলের নেপথ্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির ‘সি’ আদ্যাক্ষরধারী এক নেতার প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। বক্তারা জানান, সম্প্রতি বাকলিয়া এলাকায় সংঘটিত ছাত্রদল নেতা আরিফ হত্যাকাণ্ডেও ওই নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছিল।
উল্লেখ্য, সানশাইন গ্রামার স্কুলের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমি দখলের অভিযোগ জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। চট্টগ্রামের সচেতন মহলের প্রত্যাশা- দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ভূমি মালিককে সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ফারুক, চট্টলা২৪

