বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আয়োডিনবিহীন লবণ: কনফিডেন্স সল্টের এমডির বিরুদ্ধে পরোয়ানা

আয়োডিনবিহীন ও মানহীন লবণ বাজারজাতের অভিযোগে কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদিউল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত সাহারা বীথি এ আদেশ দেন। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৯ ডিসেম্বর।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)–এর মান অনুযায়ী প্যাকেটজাত লবণে প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ৫০ পিপিএম আয়োডিন থাকার কথা থাকলেও পরীক্ষায় কনফিডেন্স সল্টে মাত্র ১৩ পিপিএম আয়োডিন পাওয়া গেছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মোহাং কামরুল হাসান এ মামলাটি দায়ের করেন। তিনি জানান, পরীক্ষাগারে লবণের মান নিম্নমানের প্রমাণ পাওয়ায় নিরাপদ খাদ্য আদালতে মামলা করা হয়। শুনানি শেষে আদালত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, কনফিডেন্স আয়োডিনযুক্ত ভ্যাকুয়াম লবণের মান নিয়ে সন্দেহ হলে বাজার থেকে ৪০ টাকা দিয়ে এক কেজি ওজনের একটি প্যাকেট সংগ্রহ করা হয়। পরে নমুনাটি জনস্বাস্থ্য খাদ্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হলে রাসায়নিক পরীক্ষায় তা মানহীন হিসেবে চিহ্নিত হয়। খাদ্য বিশ্লেষক ইলিয়াস জাহেদী লবণটি মানসম্পন্ন নয় মর্মে সনদ প্রদান করেন।

খাদ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরীক্ষার ফল অনুযায়ী ওই লবণে কার্যত আয়োডিন নেই বললেই চলে। এ ধরনের লবণ গ্রহণে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এটি ভোক্তাদের সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণা উল্লেখ করে তারা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি অবিলম্বে বাজার থেকে ভেজাল লবণ প্রত্যাহারের দাবি জানান।

এ বিষয়ে কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেডের হেড অব ব্র্যান্ড মার্কেটিং নেওয়াজ ইমতিয়াজ বলেন, এখনো তারা কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাননি। তবে লোকমুখে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তার দাবি, একতরফাভাবে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হয়েছে এবং পরীক্ষার ফলাফল সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটি অবগত নয়। তাদের উপস্থিতিতে পরীক্ষা হলে বিষয়টি আরও স্বচ্ছ হতো বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আয়োডিনের ঘাটতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোন প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা করা হয়েছে তা না জেনে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তিনি আরও জানান, চলতি বছরের মাঝামাঝিতে প্রায় তিন মাস সরকারিভাবে আয়োডিন সরবরাহ বন্ধ ছিল। সে সময় বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে আয়োডিন সংগ্রহ করা হয়, যার মান কিছুটা নিম্নমানের হতে পারে। সেখান থেকেই সমস্যার সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা দেন।

ফারুক, চট্টলা২৪

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে বৃদ্ধের ২০ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালির অভিযোগে মনজুর আলম (৬৫) নামে...

সড়ক নিরাপত্তায় হাটহাজারীর স্কুলছাত্রীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা

চট্টগ্রামে সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা হ্রাসে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে...

শিশু নিখোঁজ হলে সবার আগে যা করবেন

৩ সেপ্টেম্বর বিকেলের ঘটনা। আমার বাসার সহকারীর আসল নাম...