বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কক্সবাজারে আটলান্টিক ক্রুজে অগ্নিকাণ্ড, প্রাণ গেল এক কর্মচারীর

কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীতে সেন্ট মার্টিনগামী একটি পর্যটকবাহী জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে জাহাজটির এক কর্মচারী নিহত হয়েছেন। তবে যাত্রার জন্য ঘাটে অপেক্ষারত ১৯৪ জন পর্যটক অক্ষত রয়েছেন।

আজ শনিবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে কক্সবাজার সদরের নুনিয়াছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাটে এ ঘটনা ঘটে। জাহাজটির নাম ‘এমভি আটলান্টিক ক্রুজ’। প্রতিবেদন লেখার সময় ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট, কোস্টগার্ড ও প্রশাসনের স্বেচ্ছাসেবক দল আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিল।

জাহাজমালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, প্রতিদিনের মতো আজও সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে যাত্রী নেওয়ার জন্য জেটিঘাটে ভেড়ার চেষ্টা করছিল এমভি আটলান্টিক ক্রুজ। এ সময় হঠাৎ জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা পুরো জাহাজে ছড়িয়ে পড়ে।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, আগুনে পুড়ে জাহাজের এক কর্মচারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম নুর কামাল (৩৫)। তিনি জাহাজের একটি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানা গেছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা জানান, নির্ধারিত যাত্রার মাত্র ১৫ মিনিট আগে জাহাজটিতে আগুন লাগে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হলেও সময়মতো যাত্রী না ওঠায় প্রাণহানির সংখ্যা বাড়েনি।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জেলা প্রশাসক বলেন, বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে পর্যটকেরা রক্ষা পেয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।

জাহাজ পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও কক্সবাজার সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনিম জানান, আগুনে জাহাজটির পুরো অংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় জাহাজে কোনো পর্যটক ছিলেন না। আটলান্টিক ক্রুজের যাত্রীদের বিকল্প জাহাজে করে সেন্ট মার্টিন পাঠানো হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জেটিঘাটে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যাত্রীদের একজন মীর আসলাম বলেন, স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে জাহাজে ওঠার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। আগুনের দৃশ্য দেখে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আর কিছুক্ষণ পর এই ঘটনা ঘটলে বড় বিপদ হতে পারত।’

জানা গেছে, শনিবার সকালে কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া জেটিঘাট থেকে প্রায় দুই হাজার পর্যটক নিয়ে ছয়টি জাহাজ সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করে। এর মধ্যে পাঁচটি জাহাজে ১ হাজার ৯৯৩ জন যাত্রী ছিলেন। গভীর সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে জাহাজগুলো দুপুরের দিকে সেন্ট মার্টিনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ নভেম্বর থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে পর্যটকদের রাত যাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে দ্বীপে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও অনলাইন টিকিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ফারুক, চট্টলা২৪

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে বৃদ্ধের ২০ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালির অভিযোগে মনজুর আলম (৬৫) নামে...

সড়ক নিরাপত্তায় হাটহাজারীর স্কুলছাত্রীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা

চট্টগ্রামে সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা হ্রাসে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে...

শিশু নিখোঁজ হলে সবার আগে যা করবেন

৩ সেপ্টেম্বর বিকেলের ঘটনা। আমার বাসার সহকারীর আসল নাম...

চট্টগ্রামে বিয়ে শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনা, নারীসহ নিহত ২

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার...