আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। একই সঙ্গে বিজিবিও সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। নির্বাচনের সময় সারাদেশে প্রায় ৩৫ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে জানান তিনি।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিজিবি দিবস–২০২৫ উপলক্ষে বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, সীমান্তে বর্তমানে কঠোর নজরদারি চালু রয়েছে এবং কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। দেশের ভেতরে অপরাধ করে কেউ যেন সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে বাড়তি সতর্কতা ও কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বিজিবি সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সীমান্তে চোরাচালান ও মাদক পাচার রোধে আরও কঠোর ও কৌশলী হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজিবি সদস্যদের অপরিসীম সাহস ও আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহিদ এবং জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের প্রতিও তিনি সমবেদনা প্রকাশ করেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিজিবি একটি সুদীর্ঘ ও গৌরবময় ঐতিহ্যের বাহিনী। একটি ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে বিজিবি সীমান্ত সুরক্ষা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বিজিবির উন্নয়নে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত দিয়ে কোনোভাবেই মাদক দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। স্পর্শকাতর এলাকায় অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে। চোরাকারবারি বা মাদক পাচারকারীদের সহযোগিতাকারী কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সীমান্তসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে বিজিবি সদস্যদের কৌশলী ও পেশাদার আচরণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ শতভাগ রক্ষা করতে হবে। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বিজিবির খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারবর্গকে সংবর্ধনা ও উপহার সামগ্রী প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ৭২ জনকে বিভিন্ন পদকে ভূষিত করা হয়।
ফারুক, চট্টলা২৪

