মায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি তার অনুভূতির কথা জানান।
স্ট্যাটাসে তারেক রহমান উল্লেখ করেন, তার প্রিয় মা, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে তিনি বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করেছেন।
লেখার শুরুতে তিনি বলেন, “গভীর শোক ও কৃতজ্ঞতায় ভাস্বর হয়ে আমি আমার প্রিয় মা, জীবনের প্রথম শিক্ষক, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আমার বাবা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “তার অনুপস্থিতির শূন্যতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”
এই কঠিন সময়ে দেশবাসীর পাশে থাকার কথা উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, অগণিত নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী, পরিবার ও সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় তিনি গভীরভাবে আবেগাপ্লুত। তার ভাষায়, “লক্ষ-লক্ষ মানুষ একসঙ্গে এসে যেভাবে সম্মান ও ভালোবাসা জানিয়েছে, তা আমাকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে- তিনি শুধু আমার মা ছিলেন না, অনেক দিক থেকে তিনি ছিলেন সমগ্র জাতির মা।”
আন্তর্জাতিক মহলের সহমর্মিতার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি জানান, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শীর্ষ প্রতিনিধি, কূটনীতিক ও উন্নয়ন সহযোগীরা সরাসরি উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। পাশাপাশি যেসব দেশ সমবেদনা প্রকাশ করেছে, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
শোকের মুহূর্তে পরিবারের অন্য সদস্যদের স্মরণ করে তারেক রহমান লেখেন, তিনি তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ভাই আরাফাত রহমান কোকোর কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন। তার ভাষায়, “এত মানুষের ভালোবাসায় মনে হচ্ছে, নিকটজন হারানোর শূন্যতা পেরিয়ে পুরো বাংলাদেশই আমার পরিবার হয়ে উঠেছে।”
স্ট্যাটাসের শেষাংশে বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার মা সারাজীবন নিরলসভাবে মানুষের সেবা করেছেন। তিনি অঙ্গীকার করে বলেন, “যেখানে আমার মায়ের পথচলা থেমেছে, সেখানে আমি সেই পথযাত্রাকে এগিয়ে নিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।”
সবশেষে তিনি দোয়া কামনা করে লেখেন, আল্লাহ যেন তার মায়ের রূহের মাগফিরাত দান করেন এবং তার রেখে যাওয়া ভালোবাসা, ত্যাগ ও উদারতার উদাহরণ থেকেই জাতি শক্তি, ঐক্য ও দেশপ্রেমের অনুপ্রেরণা খুঁজে পায়।
ফারুক, চট্টলা২৪

