শীতের কনকনে রাতে ঘুমন্ত অসহায় মানুষের গায়ে নিজ হাতে কম্বল জড়িয়ে দিয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় শীতার্ত দরিদ্র, পথশিশু ও ভাসমান মানুষের খোঁজখবর নেন তিনি।
শীতবস্ত্র বিতরণকালে নগরীর ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশনে শীতার্ত দুই পথশিশু—ঝুমুর ও শাহীনের দিকে দৃষ্টি পড়ে জেলা প্রশাসকের। কনকনে ঠান্ডায় কাঁপতে থাকা শিশু দুটির সঙ্গে একজন পিতার মতো দীর্ঘ সময় কথা বলেন তিনি। পরে নিজ হাতে তাদের গায়ে কম্বল জড়িয়ে দেন। রাতে খাবার না পাওয়ার কথা জানালে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের জন্য আর্থিক সহায়তাও দেন জেলা প্রশাসক।
এ সময় নগরীর মহসীন কলেজ এলাকায় ফুটপাতে বসবাসরত শারীরিক প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক আব্দুল মজিদ ও তার সাত বছর বয়সী কন্যা ইয়াসমিনের প্রতিও নজর দেন জেলা প্রশাসক। কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে আসা এই বাবা-মেয়ের আশ্রয় বলতে ফুটপাতে পাতা একটি পুরোনো কম্বল। শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে আব্দুল মজিদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নোট করেন ডিসি এবং স্থায়ী পুনর্বাসনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসতে অনুরোধ জানান।
পরবর্তীতে টেলিফোনে যোগাযোগে আব্দুল মজিদ জানান, শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। ভিক্ষা করে যে অর্থ পান, তা দিয়েই মেয়েকে নিয়ে কোনোমতে দিন কাটে। মেয়ের ইচ্ছা থাকলেও অনেক সময় মাছ-মাংস খাওয়াতে পারেন না।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “আমার নিজেরও একটি মেয়ে আছে। ইয়াসমিনকে দেখে নিজের সন্তানের মুখ চোখের সামনে ভেসে উঠেছে। একজন জেলা প্রশাসক হিসেবে নয়, একজন বাবা হিসেবেও আমার দায়িত্ববোধ থেকে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, সমাজের সবচেয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো জেলা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নগরীর দামপাড়া গরীবউল্লাহ মাজার এলাকা, ষোলশহর রেলস্টেশন, মুরাদপুর, চকবাজার, চেরাগী পাহাড় মোড়, লালদিঘী ও জেল রোডের আমানত শাহ মাজার এলাকায় মোট ৬০০টি কম্বল বিতরণ করা হয়।
শীতের রাতে জেলা প্রশাসকের সরাসরি উপস্থিতি অসহায় মানুষের মধ্যে স্বস্তি, আস্থা ও আশার বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
ফারুক, চট্টলা২৪

