বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আনিসুল মাহমুদের দায় চাপানোর রাজনীতি, প্রতিবাদে বিএনপি

আসনে মনোনয়নপত্র বাতিলের পর জাতীয় পার্টির নেতা ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বিএনপি ও তাদের নেতাকর্মীদের জড়িয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাকে ন্যাক্কারজনক আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা।

রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানান চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ আজম উদ্দিন, সাবেক সহ-সভাপতি ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন ও এম এ ফায়েজ, হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব নূর মোহাম্মদ ও সদস্য সচিব মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন চেয়ারম্যান, হাটহাজারী পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব জাকের হোসেন ও সদস্য সচিব ওহিদুল আলম ওহিদসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম-৫ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদসহ কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র সুনির্দিষ্ট স্বাক্ষর জালিয়াতির কারণে বাতিল করা হয়। অথচ মনোনয়ন বাতিলের পর সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার আনিসুল এ ঘটনার দায় বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর চাপান, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

নেতারা বলেন, হাটহাজারীর আপামর মানুষের নেতা ও জনপ্রিয় তরুণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন কিংবা বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর সঙ্গে এ ঘটনার বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা নেই। এই অভিযোগ আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংবাদ সম্মেলনে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ যে বিক্ষোভের কথা উল্লেখ করেছেন, সেটি বিএনপির কোনো কর্মসূচি ছিল না। প্রকৃতপক্ষে তার প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র-জনতা ও জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধারাই ওই বিক্ষোভে অংশ নেয়। কারণ, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসন টিকিয়ে রাখতে আনিসুল ইসলাম মাহমুদের ভূমিকা হাটহাজারীবাসীর কাছে সর্বজনবিদিত।

নেতারা অভিযোগ করেন, তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে সংসদ সদস্য পদ দখলের অভিযোগসহ ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আনিসুল ইসলাম মাহমুদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব অভিযোগ থেকে দৃষ্টি ভিন্নখাতে নিতে তিনি বিএনপির ঘাড়ে দায় চাপানোর অপচেষ্টা করছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হলেও ব্যারিস্টার মীর হেলাল কিংবা বিএনপির কোনো নেতাকর্মী কখনো প্রতিশোধমূলক রাজনীতিতে জড়াননি। বরং রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও সহনশীলতার মাধ্যমে মানুষের ন্যায্য ক্ষোভ সামাল দিয়েছেন বলেই আজ তিনি দল-মত নির্বিশেষে হাটহাজারীর মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বে পরিণত হয়েছেন।

শেষে নেতারা বলেন, জনগণের ক্ষোভ ও ব্যারিস্টার মীর হেলালের জনপ্রিয়তা দেখেই ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ আতঙ্কিত হয়ে মিথ্যাচার করছেন। এসব অপপ্রচারের উপযুক্ত জবাব হাটহাজারীর জনগণই দেবেন- এ বিশ্বাস আমাদের আছে।

ফারুক, চট্টলা২৪

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে বৃদ্ধের ২০ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালির অভিযোগে মনজুর আলম (৬৫) নামে...

সড়ক নিরাপত্তায় হাটহাজারীর স্কুলছাত্রীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা

চট্টগ্রামে সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা হ্রাসে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে...

শিশু নিখোঁজ হলে সবার আগে যা করবেন

৩ সেপ্টেম্বর বিকেলের ঘটনা। আমার বাসার সহকারীর আসল নাম...

চট্টগ্রামে বিয়ে শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনা, নারীসহ নিহত ২

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার...