ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ধাপে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে বক্তব্য দিয়েছেন চট্টগ্রাম-১৪ সংসদীয় আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শফিকুল ইসলাম রাহী। তিনি জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চূড়ান্তভাবে অংশগ্রহণের বিষয়ে আগামী ২০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শফিকুল ইসলাম রাহী বলেন, কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত লিখিত নির্দেশনা, নির্বাচন কমিশনের বিধি-বিধান এবং দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই তিনি নিজের অবস্থান চূড়ান্ত করবেন। এ বিষয়ে তিনি দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থাশীল বলেও জানান।
তিনি আরও বলেন, কেন্দ্র থেকে সব স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সরাসরি ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে চিহ্নিত করার যে আলোচনা চলছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত ও সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিভিন্ন বাস্তব ঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শফিকুল ইসলাম রাহী বলেন, মামলা-মোকদ্দমা, ঋণ খেলাপি হওয়া, মনোনয়নপত্রে কারিগরি ত্রুটি কিংবা নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতার কারণে দলের মূল প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। এসব সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার অংশ হিসেবেই অন্তত ১৫টির বেশি সংসদীয় আসনে বিকল্প প্রার্থী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে বিষয়টি নতুন নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতেও বিভিন্ন সময়ে দলগুলো এ ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তবে এবারের প্রেক্ষাপটে এর পরিসর তুলনামূলকভাবে অনেক বিস্তৃত। পাশাপাশি কিছু প্রার্থীর ক্ষেত্রে বার্ধক্যজনিত শারীরিক অসুস্থতা কিংবা ব্যক্তিগত আইনি জটিলতার বিষয়টিও কেন্দ্রীয়ভাবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোনো কারণে যদি যাচাই-বাছাই বা আইনি প্রক্রিয়ায় দলের মূল প্রার্থী বাদ পড়ে যান, তখনই কেবল এসব বিকল্প প্রার্থীকে চূড়ান্ত হিসেবে ঘোষণা করা হবে। অন্যথায় এটি রাজনৈতিক প্রস্তুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
শেষে শফিকুল ইসলাম রাহী বলেন, দেশবাসীর গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা পূরণ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে দায়িত্বশীল ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। দলের বৃহত্তর স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ফারুক, চট্টলা২৪

