চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করতে আদালতে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে জামায়াত। সারোয়ারের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিটের শুনানি হাইকোর্ট মঙ্গলবার করেছেন এবং তা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি রাখা হয়েছে। হাইকোর্টের বেঞ্চে বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম শুনানি পরিচালনা করেন।
সারোয়ার আলমগীরের পক্ষে ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী আহসানুল করিম, বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফয়েজী ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। আদালত এদিন ব্যাংকের প্রতিনিধিদের বক্তব্য শুনবেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, সারোয়ার আলমগীর ঋণখেলাপি নন এবং তিনি বিধি অনুযায়ী ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ করেছেন।
তবে জামায়াতের প্রার্থী মো. নুরুল আমীন সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে চেম্বার জজ আদালতে আরও একটি সিভিল পিটিশন দায়ের করেছেন। পিটিশনে বিবাদী করা হয়েছে সারোয়ারের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ‘হালদা এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড অ্যান্ড আদার্স’-কে এবং অভিযোগ করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি ঋণখেলাপি। চেম্বার জজ রেজাউল হক পিটিশনটি শুনানি জন্য আপিল বিভাগের ফুল বেঞ্চে প্রেরণ করেন।
সারোয়ার আলমগীরের আইনজীবী বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফয়েজী বলেন, হালদা এন্টারপ্রাইজ ঋণখেলাপি নয় এবং তার সিআইবি রিপোর্ট হালনাগাদ রয়েছে। এছাড়া, প্রিমিয়ার লিজিং লিমিটেডের সঙ্গে চলমান আইনী জটিলতা শেষে অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়েছে।
বিস্তারিত
খোঁজে জানা গেছে, সারোয়ার আলমগীরের বিরুদ্ধে জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলো পরিকল্পিত। ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন প্রথমে তার প্রার্থিতা বহাল রাখলেও, বিকেলের প্রিমিয়ার লিজিং লিমিটেডের স্টে অর্ডার ইস্যুতে তা বাতিল ঘোষণা করা হয়। তবে, মঙ্গলবার সরওয়ার আলমগীরের পক্ষ থেকে অর্থ পরিশোধ এবং অনাপত্তিপত্র ইস্যুর ফলে পরিস্থিতি তার অনুকূলে এসেছে।
আইনী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জামায়াতের পক্ষ প্রতিদিন নতুন নতুন পিটিশন দিয়ে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। তবে শেষ মুহূর্তের আইনী সমাধান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতায় সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনী দৌড়ে রয়েছেন। আদালত পাড়ায় বিষয়টি নিয়ে গড়ে উঠেছে হাস্যরসও।
ফারুক, চট্টলা২৪

