আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে গণভোটও। এ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচারণা। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইসির জারি করা আচরণবিধি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থীরা বিভিন্ন ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন। তবে এবার প্রথমবারের মতো পোস্টার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন বক্তব্য, বিদ্বেষমূলক প্রচার এবং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
সভা-সমাবেশে কঠোর নিয়ম
জনসভা ও সমাবেশ আয়োজনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে লিখিতভাবে দিন-তারিখ ও স্থান জানাতে হবে। জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সড়ক, মহাসড়ক কিংবা জনপথে জনসভা বা পথসভা করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে ইসি। প্রার্থীর পক্ষে বিদেশে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ আয়োজনের সুযোগও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পোস্টার নিষিদ্ধ, সীমিত প্রচার সামগ্রী
নির্বাচনী প্রচারে পোস্টার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পরিবেশ সুরক্ষার কথা বিবেচনায় পলিথিন ও রেক্সিন ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন, যার আকার ১৬ ফুট বাই ৯ ফুটের বেশি হবে না।
ব্যানার, লিফলেট বা ফেস্টুন সাদা-কালো রঙে সীমাবদ্ধ থাকবে। ব্যানারের আকার সর্বোচ্চ ১০ ফুট বাই ৪ ফুট, লিফলেট এ-ফোর সাইজ এবং ফেস্টুন ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চির মধ্যে রাখতে হবে।
ছবি ও প্রতীকের সীমাবদ্ধতা
প্রচারণা সামগ্রীতে প্রার্থীর নিজস্ব ছবি ও প্রতীক ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করা যাবে না। ছবি অবশ্যই পোর্ট্রেট আকারে হতে হবে এবং এর মাপ হবে ৬০ সেন্টিমিটার বাই ৪৫ সেন্টিমিটার। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীরা কেবল দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা
প্রার্থীরা ও তাঁদের প্রতিনিধি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালাতে পারবেন, তবে এর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে সংশ্লিষ্ট পেজ বা অ্যাকাউন্টের নাম, আইডি ও ই-মেইলসহ তথ্য জমা দিতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর, ঘৃণাত্মক বা মিথ্যা তথ্য প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। গুজব ও এআই অপব্যবহার রোধে এবার নতুন ধারা যুক্ত করে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
আরও যেসব বিষয় নিষিদ্ধ
নির্বাচনী প্রচারণায় যানবাহন ব্যবহার করে শোডাউন, মিছিল বা মশাল মিছিল নিষিদ্ধ। তোরণ নির্মাণ, আলোকসজ্জা এবং ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, ছবি বা প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ নেই। রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে দলীয় প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া অন্য কেউ আকাশযান ব্যবহার করতে পারবেন না।
আচরণবিধি লঙ্ঘনে কঠোর শাস্তি
আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা দেড় লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। গুরুতর অপরাধ প্রমাণিত হলে প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতাও রয়েছে নির্বাচন কমিশনের হাতে।
ফারুক, চট্টলা২৪

